২৫ বছর আগে হারানো ছোট ভাইকে স্মরণ করেই মাঠে নামা। আর সেই ম্যাচেই বহু প্রতীক্ষিত গোলের দেখা পাওয়া—জ্যাক গ্রিলিশের জন্য এর চেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আর কী হতে পারত! শনিবার রাতে লেস্টারের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ২-০ গোলের জয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দলের হয়ে গোল করেন গ্রিলিশ। প্রায় ১৬ মাস পর প্রিমিয়ার লিগে পাওয়া এই গোলটি শুধুই ব্যক্তিগত খরা কাটানোর আনন্দ ছিল না, ছিল না শুধুই দলকে এগিয়ে নেওয়ার উচ্ছ্বাস। ম্যাচ শেষে জানা গেল, এটি ছিল প্রয়াত ছোট ভাই কিলানের স্মরণে নিবেদিত এক বিশেষ গোল।
গ্রিলিশ যখন মাত্র চার বছরের, তখনই সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোমে (সিডস) আক্রান্ত হয়ে মাত্র নয় মাস বয়সে মারা যায় তার ছোট ভাই কিলান। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার ২৫ বছর পূর্ণ হলো শনিবার।
ম্যাচ শেষে বিবিসি স্পোর্টকে গ্রিলিশ বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের পরিবারের জন্য খুব কঠিন। আমার ছোট ভাই ২৫ বছর আগে আজকের দিনেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমার বাবা-মা গ্যালারিতে ছিলেন। এই দিনে গোল করতে পারা এবং জয় পাওয়া—অসাধারণ এক অনুভূতি।’
ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় গ্রিলিশ লেখেন, ‘সব সময় আমার সঙ্গে, বিশেষ করে আজকের দিনে… এই গোল তোমার জন্য, কিলান।’
গ্রিলিশের আবেগঘন স্মরণ সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানতেন না ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। তবে ম্যাচ শেষে তিনি তার শিষ্যের মানবিক গুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
গার্দিওলা বলেন, ‘জ্যাক একজন অসাধারণ মানুষ, দারুণ উদার মনের। আমি জানতাম না আজকের দিনের বিশেষ তাৎপর্য। তার পরিবারের জন্য এটি কতটা কঠিন, তা কল্পনাও করতে পারছি না। কিন্তু এটি দারুণ যে, তারা আজকের দিনটি স্মরণ করেছে। আমি নিশ্চিত, তারা প্রতিদিনই কিলানকে স্মরণ করে।’
দীর্ঘদিন পর প্রিমিয়ার লিগে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া গ্রিলিশ কি এবার নিয়মিত হতে পারবেন? সিটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যানচেস্টার ডার্বি থাকায় কোচ গার্দিওলা এই ম্যাচে ফিল ফোডেন ও কেভিন ডি ব্রুইনেকে বিশ্রাম দিয়েছেন। তবে দলের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং আক্রমণভাগে আর্লিং হালান্ডের চোটের কারণে গ্রিলিশের সামনে নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে লেস্টারের বিপক্ষে ১০ নম্বর পজিশনে খেললেও গ্রিলিশের স্বস্তি ছিল না, মনে করেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘সে সাধারণত বাঁ পাশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মাঝমাঠে সে কিছুটা স্বাধীনতা পছন্দ করে, তবে প্রতিপক্ষ যখন নিচে নেমে রক্ষণ সামলায়, তখন মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের কাজটা কঠিন হয়ে যায়।’
চলতি মৌসুম শেষে গ্রিলিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিলিশের সঙ্গে সিটির চুক্তির মেয়াদ বাকি আছে আরও দুই বছর। তবে সামনের গ্রীষ্মে দলবদলের মৌসুমে গার্দিওলা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন, যার প্রভাব পড়তে পারে গ্রিলিশের ভবিষ্যতেও।
সেই ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত, ছোট ভাইকে উৎসর্গ করা আবেগঘন গোলের আনন্দেই ডুব দিয়েছেন জ্যাক গ্রিলিশ!