রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি দেশটির মুরমানস্কে অবস্থিত এটমফ্লোটের বেইজ পরিদর্শন করেন। এই সফরের সময় তিনি নর্থ সী-রুট জেনারেল এডমিনিস্ট্রেশনের মেরিন অপারেশন্স হেড কোয়ার্টার্স এবং ফেডারেল স্টেট বাজেটারি ইন্সটিটিউশন পরিদর্শন করেন। মূলত, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নর্থ সী-রুটের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পারমাণবিক সংস্থা রসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পরিদর্শনের সময় নর্থ সী-রুটে মোট ৫০টি জাহাজ চলাচল করছিল, যার মধ্যে ৯টি ছিল পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকার। রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন দেশের জাতীয় কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং এই রুটে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের জন্য নিয়মিতভাবে মালবাহী জাহাজ চলাচল, নতুন আইসব্রেকারের নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোর আধুনিকীকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
রসাটম, রাশিয়ার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ‘নর্থ সী-রুটের উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করছে। একইসঙ্গে, সংস্থাটি ২০৩৫ সালের মধ্যে নর্থ সী-রুটের উন্নয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আরও একটি ‘বছরব্যাপী নর্থ সী-রুট’ পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে।
রসাটমের মূল লক্ষ্য হলো নর্থ সী-রুটকে একটি কার্যকরী জলপথ হিসেবে তৈরি করা, যা ইউরোপ, রাশিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্ত করবে। গত বছর ডিসেম্বরে রুশ সরকার ‘গ্রেট নর্থ সী-রুট’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে, যার মাধ্যমে সেন্ট পিটার্সবার্গ, কালিনিনগ্রাদ এবং ভ্লাদিভস্তককে সংযুক্ত করা হবে।
বিশ্বে একমাত্র রাশিয়ারই একটি পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকার বহর রয়েছে। বর্তমানে চুকোতকা, লেনিনগ্রাদ এবং রাশিয়া নামে তিনটি পরমাণু চালিত আইসব্রেকার নির্মাণাধীন রয়েছে। রাশিয়ার বিখ্যাত ২২২২০ প্রকল্পের অধীনে স্টেলিনগ্রাদ নামে আরও একটি আইসব্রেকার নির্মাণ শীঘ্রই শুরু হবে। রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের মতে, নর্থ সী-রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আরও দুটি ইউনিভার্সাল পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকারের প্রয়োজন।
পরিদর্শনের সময়, রুশ প্রেসিডেন্ট ‘আইসব্রেকার অফ নলেজ’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক অভিযাত্রা দলের সঙ্গে শিশুদের মধ্যে মতবিনিময় করেন। এই অভিযানে রাশিয়ার ১২ জন স্কুল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সাল থেকে রসাটম এই অভিযানের আয়োজন করছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় করা, তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা এবং ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।