দুর্নীতির দায়ে প্রায় দেড় বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেললেন নাসির হোসেন। ৩৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার প্রত্যাবর্তনের দিনেই পেয়েছেন জয়ের দেখাও।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বল হাতে পুরো ১০ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে নিলেন ১টি উইকেট। বাঁহাতি ব্যাটার শামিম মিয়াকে অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে বাধ্য করে পয়েন্টে অধিনায়ক আরিফুল হকের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। নতুন বলে প্রথম ওভারে বল করার পর টানা ৯ ওভার বল করে পুরোনো নাসিরের ছোঁয়াও দিলেন।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে খেলতে নেমে আবেগ চাপাতে পারেননি নাসির। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। যেই জিনিসটা মিস করছিলাম, ক্রিকেট খেলা, তাই দেড় বছর পর আবার মাঠে ফিরে খুব ভালো লাগছে। বাইরে থাকলেও বেশ বিন্দাস ছিলাম। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, ভালো ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ্। তবে ক্রিকেটটা অবশ্যই মিস করেছি।’
দীর্ঘ সময় পর ফেরার প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাসির জানান, ‘অভিষেক ম্যাচের মতো মনে হয়নি, তবে অনেক কিছুই নতুন নতুন লাগছিল। ব্যাগ গোছানো, প্রস্তুতি নেওয়া—সব কিছুই নতুন লাগছিল। ভালো লাগত যদি আরেকটু ভালো পারফর্ম করতে পারতাম।’
নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম ম্যাচেই খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে নাসির বললেন, ‘আমি অনেক আনলাকি! (হাসি) ম্যাচ ছিল বিধায় খেলতে পেরেছি। অনেক দলের প্রস্তাব ছিল, তবে যেটা মনে হয়েছে আমার জন্য ভালো হবে, সেটাই বেছে নিয়েছি। আমি কোনো দলের অপশন হয়ে থাকতে চাইনি।’
জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন এখনও দেখেন নাসির। জানালেন, ‘আমরা সবাই জাতীয় দলে খেলার জন্যই খেলি। স্বপ্ন দেখি। যদি পারফর্ম করি এবং সেটার মূল্যায়ন হয়, তাহলে অবশ্যই জাতীয় দলে ফিরতে পারব। তবে পারফর্ম করার পরও যদি ডাক না আসে, তাহলে কঠিন।’
নাসির নির্বাচক প্যানেলের ভূমিকা নিয়েও নিজের অভিমত প্রকাশ করেন। তার মতে, দীর্ঘদিন একই নির্বাচক থাকলে খেলোয়াড় মূল্যায়নে পক্ষপাতের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবর্তন হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসে। নাসির বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনি যখন নির্বাচক প্যানেলে থাকবেন... যদি বাইরের দেশে দেখেন, দুই বছর পরপর নির্বাচক প্যানেল বদলায়। ধরেন আমি নির্বাচক হিসেবে আছি। আমার চোখে কিন্তু সবাইকে সমান ভালো লাগবে না। এটাই স্বাভাবিক। দুই বছর পরপর বদলালে, আমার চোখে যাকে ভালো লাগত না, অন্য কারও চোখে তাকে ভালো লাগতেও পারে। আপনি যদি এখন ৯-১০ বছর ধরে একই জায়গায় থাকেন, যাকে ভালো লাগবে না, তার তো ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে গেল প্রায়। আমি মনে করি, আমার ক্ষেত্রে এই জিনিসটা হয়েছে। আমি যদি ৫টা সুযোগ পাই, বাকিদেরও ৫টা সুযোগই পাওয়া উচিত। এমন না হয় যেন, ওরা ২০টা সুযোগ পেল, আমি ৫টা সুযোগ পেলাম। আমার মনে হয়, আমার ক্ষেত্রে এই জিনিসটাই হয়েছে। হইতে পারে। আমার কাছে তা-ই (পছন্দ হয়নি দেখে সুযোগ পাইনি) মনে হয়।’
সমালোচকদের উদ্দেশে নাসিরের পরামর্শ, ‘আমার জীবন আমি যেভাবে চালাব সেটা আমার ব্যাপার। মাঠে যদি খারাপ কিছু করি, তখন কথা বলুন। মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে নয়। তারকা-মারকা কিছু না, আমি আপনাদের মতোই একজন মানুষ।’
বোর্ডে পরিবর্তন হলেও কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান নাসির। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে মেলে ধরার শুরু করেছেন নাসির হোসেন। তবে সামনে তার জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি পরীক্ষা—পারফর্ম করে নিজেকে আবারও প্রমাণ করা। স্বপ্ন দেখছেন, জাতীয় দলের সেই পরিচিত নাসির হয়েই ফেরার।