দেশের পেস বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া তাসকিন আহমেদ সময় কাটাচ্ছেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। কাঁধের চোট পেছনে ফেলে তিন সংস্করণেই নিয়মিত পারফর্ম করছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর নিবেদনের পুরস্কার হিসেবে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে উঠে এসেছেন ‘এ’ প্লাস ক্যাটেগরিতে। তবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নের ঠিক মাঝপথে বাঁ পায়ের গোড়ালির পুরনো ব্যথা নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে টাইগার শিবিরে।
সম্প্রতি বাঁ পায়ের গোড়ালির হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরা পড়েছে তাসকিনের। বেশিরভাগ ম্যাচেই ব্যথা নিয়ে খেলতে হচ্ছে তাকে। সমস্যা বাড়তে থাকায় বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। পরিস্থিতি মূল্যায়নে গতকাল তার এমআরআই করানো হয়েছে।
পেসারদের জন্য ল্যান্ডিং পায়ের গোড়ালির হাড় বৃদ্ধি খুব অস্বাভাবিক নয়। তবে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাসকিনের ক্ষেত্রে ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় সমস্যা। তিনি বলেন, "বছরের পর বছর বোলিং করার কারণে পেসারদের গোড়ালির হাড় কিছুটা বাড়ে। সাধারণত এতে ব্যথা হয় না। কিন্তু তাসকিনের ব্যতিক্রম ঘটেছে। ম্যাচ খেললেই ব্যথা হয়, বিশ্রামে থাকলে ব্যথা কমে যায়।"
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোড়ালির হাড়ে অস্ত্রোপচার একটি জটিল প্রক্রিয়া। দেশে এখনো কোনো ক্রীড়াবিদের এ ধরনের অস্ত্রোপচারের নজির নেই। তাই আপাতত অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটতে চাইছে না বিসিবি।
তাসকিন তিন মাস আগে গোড়ালির ব্যথার কথা জানান চিকিৎসকদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হাড় বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর থেকেই চোটের পরিচর্যা ও ‘ওয়ার্কলোড’ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাকে খেলানো হচ্ছে। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান তাসকিনের রিহ্যাব প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করছেন।
বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ জানান, "তাসকিনের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা আছে। সে কারণেই ঢাকা লিগে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছে। ঈদের পর আর খেলেনি, বিশ্রামে থেকেছে। মূল লক্ষ্য ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য তাকে প্রস্তুত রাখা।"
গতকালের চিকিৎসা পর্যালোচনায় তাসকিনের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তাই পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তৈরি তাসকিন নিজেও টেস্ট খেলার ব্যাপারে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন আন্তর্জাতিক মৌসুম। এরপর মে মাসে পাকিস্তান সফর, জুন-জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফর, জুলাই-আগস্টে হোমে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, তারপর ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ—টানা ব্যস্ততা অপেক্ষা করছে তাসকিনদের জন্য।
নিজেকে ফিট রাখতে তাই ‘বিশ্রাম নীতি’ অবলম্বন করতেই হতে পারে দেশের সেরা এই পেসারকে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে ওঠা তাসকিনের সুস্থতা এখন সময়ের দাবি।
নাসিরের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গাজীকে হারালে রূপগঞ্জ
অসহায় ফিলিস্তিনিদের জন্য মন কাঁদছে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের
‘তোমরা আমাদের হৃদয়ে আছো’, গাজাবাসীদের জামাল ভূইয়া