টাঙ্গাইলের মধুপুরে উচ্ছেদ অভিযানে বনবিভাগের কর্মীরা সুমাইয়া নামের এক নওমুসলিম নারীর ঘর ভেঙে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পঁচিশ মাইল এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।
এরপর প্রশাসনের আশ্বাসে রাত সাড়ে ৮টায় বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়। এর আগে, বন বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সুমাইয়া শেখের ঘর ভেঙে দেয়।
জানা যায়, গাছাবাড়ী এলাকায় এক খৃষ্টধর্মীয় গারো নারী কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে সুমাইয়া শেখ নাম ধারণ করেছেন। তিনি পঁচিশ মাইল এলাকায় ফারুক হোসেনের বাড়িতে বিনা ভাড়ায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়রা তার প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে তাকে অর্থ সহায়তা দিয়ে ৩ শতাংশ জমির দখল দিয়ে ঘর নির্মাণ করতে সহায়তা করেন, যদিও নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি।
গতকাল সকালে বন বিভাগ সুমাইয়ার ঘর ভেঙে দেয়, ফলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে আছরের নামাজের পর থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। পরে তারা পচিশ মাইল বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন এবং সেখানে সমাবেশ করেন। বক্তব্য দেন বিএডিসি মসজিদের ইমাম ইব্রাহীম তকী, মুফতি আরিফ আদনান, পচিশমাইল জামে মসজিদের খতিব আব্দুল বাছেদ, মুফতি মাসুম বিল্লাহ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া শেখ বলেন, ‘ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় আমি এখন অসহায়। বর্তমানে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছি। স্থানীয়রা অনুদান ও যাকাতের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করায় ঘর নির্মাণ করতেছি, এখনো কাজ শেষ হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরটি সরিয়ে নিতে আমাকে কোনো প্রকার নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই আমার ঘর ভেঙে দিয়েছে বনবিভাগ। অথচ চারদিকে শতশত বাড়ি ঘর, সেগুলো ভেঙে ফেলেনি। ঘরটি ভেঙে ফেলায় থাকার জায়গা আর রইল না।’
গাছাবাড়ী বিটের বন কর্মকর্তা আব্দুল কদ্দুছ বলেন, রেঞ্জ অফিস থেকে আমাকে বলেছে তাই আমি উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছি। আমি নতুন এসেছি, তাই বেশি কিছুই জানি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে রয়েছি, বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করছে।’