‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিনিয়োগকারীদের সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামীতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করার জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রত্যেক বিনিয়োগকারির জন্য বিডাতে একটি একজন করে ক্যাপ্টেন নিয়োগ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল সারিনাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিতে যত ধরনের সংস্কার হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই বিএনপির করা। আগামী দিনের যে অর্থনীতি হবে সেটা মাথায় রেখে আমরা একটা পরিকল্পনা আগেভাগেই করেছি। আমাদের ভিশন ২০৩০-এ এটার প্রতিফলন ঘটেছে। ৩১ দফার সংস্কারের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। সেটাকে মাথায় রেখে আমরা আমাদের দেশে আসা বিনিয়োগকারীদের বলছি। আমরা কি কি পরিবর্তন আনব।

তিনি জানান, পরিবর্তনের মধ্যে সবকিছু সহজীকরণ সরলীকরণ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যে বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়ে সেটা যাতে না পরে আগামী দিনে তার জন্য আমরা আমূল পরিবর্তন আনতে চাই। তার মধ্যে একটি সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করব। সিরিয়াস রিবালারাইজেশন করব। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য যত ধরনের সুযোগ সুবিধা...।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি মুক্ত অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। এয়ারপোর্ট থেকে বিনিয়োগকারীদের আনা থেকে শুরু করে উৎপাদনে যাওয়া পর্যন্ত এবং উৎপাদনের পরবর্তী সময়ে তাদের সুযোগ-সুবিধা যাতে ব্যাহত না হয় এজন্য আমাদের পরিকল্পনায় সবকিছু খুলে বলেছি।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেব ১৯৮০ সনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইন করেছেন। লিবারেলাইজেশন যতই করেন দেখবেন এগুলো বাস্তবায়ন হয় না। এজন্য আমরা এখানে বাস্তবায়নের কথাও বলেছি। যেমন বিনিয়োগকারী আসার পরে তার প্রজেক্টটা শুরু করার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দপ্তর দপ্তরের লাইসেন্সিংয়ের বিষয় আছে অনুমতির বিষয় আছে আমরা এর জন্য বিডাতে ইনভেসমেন্ট ক্যাপ্টেন বলে অনেকগুলো ক্যাপ্টেন আমরা দেব। প্রত্যেকটা ইনভেস্টরের জন্য একজন ক্যাপ্টেন থাকবে। যে ক্যাপ্টেনটা আমাদের আগামী দিনের বিনিয়োগকারীর পুরো প্রজেক্ট এ টু জেড এই ক্যাপ্টেন এর দায়িত্বে থাকবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীকে কোনো অফিসে যেতে হবে না। কোনো মন্ত্রণালয় যেতে হবে না। ওই ক্যাপ্টেনকে সময় নির্ধারণ করে দেয়া হবে যেমন লাইসেন্স এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভিসা অনুমতি এক সপ্তাহের মধ্যে ইত্যাদি ইত্যাদি আমরা একটা সময় নির্ধারণ করে দিচ্ছি যাতে করে বিনিয়োগকারীর কোথাও যেতে হবে না।

বিনিয়োগকারীদের অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা এখন রি-লোকেশন করার চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা ভালো দেশ কোনটা সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছে। সবাই রিক্যালিব্রেট করছে তাদের পলিসি। সেজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই প্রস্তুতি বিএনপি নিয়েছে আগামী দিনের জন্য। এবং আমরা আশা করি আমাদের যে প্রস্তুতি আমাদের যে নীতিমালা এটার মাধ্যমে বিএনপি বিগত দিনে যেভাবে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা করেছে, যেভাবে বেসরকারি খাতের জন্য স্বাধীনতা দিয়েছে। বিএনপি যখন ইপিজেড করেছে তখন এই সাব কন্টিনেন্টে কিভাবে এটা চিন্তাও করেনি। ঠিক একইভাবে আমাদের এই যে ভবিষ্যতের চিন্তা আমরা সকল দেশের চাইতে এগিয়ে থাকবো এই অঞ্চলে। একইসঙ্গে এই সাব কন্টিনেন্টে সবার চাইতে প্রতিযোগিতা মূলক থাকব। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও প্রতিযোগিতামূলক থাকবো আমরা। আমরা মনে করি আমাদের যে প্রস্তাবনা এতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলে বিশ্বাস করি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কি সঙ্গে জাতীয় স্বার্থে আমাদেরকে সবাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কবে বিনিয়োগকারীদের যে আগ্রহ সেটা আগামীদিনের নির্বাচিত সরকার। কারণ বিনিয়োগ তো এটা অল্প সময়ের জন্য  নয়। সুতরাং তারা জানতে চাচ্ছে আগামী দিনে আমাদের নীতিমালা গুলো কি হবে। সেগুলোই আমরা তাদের সামনে তুলে ধরছি। এবং আমরা আশা করি আমরা যে নীতিমালা প্রস্তুত করেছি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির সব সময় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া যাওয়ার অপশন নিয়েছে। এজন্য জিয়াউর রহমানের নীতির মধ্যে প্রথমেই ছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবং উন্নয়ন মানে উৎপাদন। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিনিয়োগের বিকল্প কিছু নাই। বিএনপি'র জন্ম থেকেই এই ধারণা নিয়েই আমাদের রাজনীতি। এজন্য বিনিয়োগের স্বার্থে দেশের সকলের একটা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকা উচিত। যে কারণে আমরা এই বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমাদের পক্ষ থেকে তাদের আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। 

বিএনপির ক্ষমতাকালী সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যখন ক্ষমতা থেকে চলে যাই আজ থেকে ১৭-১৮ বছর আগে আমাদের প্রবৃদ্ধির রেট ছিল ৭.০৭%। এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সেই ধারা অব্যাহত থাকলে এখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ডাবল ডিজিটে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিগত সরকারের মিস ম্যানেজমেন্ট ও দুর্নীতির কারণে সেটা ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, তাজভীরুল ইসলাম, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য হুমায়ুন কবির, ড. মাহাদি আমিন ও বিএনপি আন্তর্জাতিক সহ পরামর্শ কমিটি সদস্য ইসরাফিল চৌধুরী খসরু।