২৪ বছর বিচ্ছেদের পর স্বামীর কাছে ফিরলেন ডেনমার্কের নারী

বরগুনা সদর উপজেলার পাজরাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুল আলম মান্নু। জীবিকার তাগিদে ১৯৯৪ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন ডেনমার্কে। ১৯৯৫ সালে সেখানকার এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে ভালো লাগা আর ভালো লাগা থেকে ১৯৯৬ সালে প্রেম বিনিময় হয়। সেই প্রেমের পথ ধরেই ১৯৯৭ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৯৭ সালে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে সংসার শুরু করেন মান্নু ও রুমানা মারিয়া। মানুষের সেবা ও নিজেদের আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলেন আকন্দ জেনারেল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তিন বছর সেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর্থিক সংকটে পড়ে যায় মান্নু দম্পতি। এক পর্যায়ে স্বমী মান্নুকে রেখে ২০০০ সালে রুমানা পাড়ি জমান নিজ মাতৃভূমি ডেনমার্কে। এরপর ২৪ বছর কেটে যায়।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশে আসেন রুমানা মারিয়া। বিমানবন্দর থেকে স্বামী মান্নু তাকে নিয়ে বরগুনায় তার নিজ বাসায় ফেরেন। বাসায় ফিরে বৃহস্পতিবার আবার তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মান্নুকে বিয়ে করতে ২৪ বছরে বহুবার চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় সেটা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মান্নু বলেন, বিয়ের সাড়ে তিন বছর সংসার করার পর আমি আর্থিক সংকটে পড়ে যাই। সে সময় স্ত্রীকে তার নিজ মাতৃভূমি ডেনমার্কে পাঠিয়ে দেই। সেখানে আমার যাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে যাওয়া হয়নি। একসময় আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ২০০৪ সালে ডেনমার্কে স্থানীয় এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সেখানে দুই সন্তানের জননী রুমানা। একপর্যায়ে ৮ বছর পর সেই স্বামীর সঙ্গেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর খুজঁতে থাকেন তার প্রথম ভালোবাসার মানুষকে। একপর্যায়ে ১০ দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমান রুমানা।

মান্নু আরও বলেন, আমি রুমানাকে বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে সরাসরি বরগুনায় নিয়ে আসি। আমরা বরগুনায় এসে ধর্মীয় রীতিমত পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।

এদিকে ২৪ বছর পর স্বামী-স্ত্রীর এমন মিলনে খুশি প্রতিবেশীরা। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এমন ভালোবাসা উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে জানান তারা।