প্লাস্টিক দূষণ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যা। প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন টন প্লাস্টিক সমুদ্রে মিশে গিয়ে পানির জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এসব সমস্যা সমাধানে অভিনব পন্থা বের করলেন জাপানি বিজ্ঞানীরা। এমন এক প্লাস্টিক তৈরি করলেন, যা লবণাক্ত পানিতে মিশে যায়। তাকুজা আইদা নামে জাপানি বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে একদল গবেষকের দীর্ঘদিনের ফসল এটি।
এই নতুন ধরনের প্লাস্টিকটি প্রচলিত প্লাস্টিকের মতোই শক্তিশালী, তবে বিশেষ রাসায়নিক গঠনের কারণে এটি খুব সহজেই গলে যেতে পারে। এধরনের প্লাস্টিক তৈরির নেপথ্যে আসলে রয়েছে ‘সুপারমলিকিউল’-এর বিজ্ঞান।
গবেষকদের মতে, সমুদ্রের লবণ পানিতে এটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গলতে শুরু করে, আর মাটিতে ফেলা হলে ১০ দিনের মধ্যেই এটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এটি ভেঙে যাওয়ার পর মাটিতে সারের মতো উপকারী রাসায়নিক সরবরাহ করে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
প্রচলিত প্লাস্টিক একবার পরিবেশে প্রবেশ করলে তা শত শত বছর পর্যন্ত অবিকৃত থাকতে পারে, যা জলজ প্রাণী ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে, প্লাস্টিক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হলে তা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানবদেহেও প্রবেশ করতে পারে।
এই প্লাস্টিকের একটি প্রধান সুবিধা হলো এটি পচনের সময় কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে না। এর উল্টোদিকে বেশিরভাগ প্লাস্টিক যখন পচে যায় তখন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, এতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা হয়। এর আরও একটি সুবিধা হলো এটি সহজেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য হতে পারে, একইসঙ্গে নতুন প্লাস্টিক উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাও কমিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি বিকল্পের খোঁজ করছিলেন, যা পরিবেশে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং কোনো ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ রাখবে না। জাপানের গবেষকরা দাবি করছেন, তাদের উদ্ভাবিত এই প্লাস্টিকই হতে পারে সেই কাঙ্ক্ষিত সমাধান।
নতুন এই প্লাস্টিকের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে তা খাদ্য প্যাকেজিং, পানীয় বোতল, ও অন্যান্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এটি শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং আমাদের বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে প্লাস্টিক বর্জন ও পুনঃব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই আরও কার্যকর হতে পারে বলে আশাবাদী গবেষকরা।