প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করবে জাপান!

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জাপানের এক সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনা এসেছে। বিদেশে অস্ত্র বিক্রি করার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে তারা। দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপ্রিয় নীতি অনুসরণ করে কোন পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করছে দেশটি। তাই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ সিদ্ধান্তর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তিবাদী দেশের অবস্থান থেকে জাপানের ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে জাপান কয়েক দশক ধরে থাকা অস্ত্র রফতানির কড়াকড়ি শিথিল করেছে। এর ফলে দেশটি এখন এক ডজনেরও বেশি দেশে অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে। ক্ষমতাসীন জোটের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বৈঠকে এই পরিবর্তন অনুমোদন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের যে শান্তিবাদী অবস্থান ছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবেও এটি ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে-উদ্ধার, পরিবহন, সতর্কতা, নজরদারি এবং মাইন অপসারণ-অস্ত্র রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ ছিল, সেই বাধাগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ জাপানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা ১৭টি দেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। তবে যুদ্ধরত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। যদিও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচি এক্সে লিখেছেন ‘ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোন একক দেশ একা তার শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে যে শান্তিপ্রিয় নীতি অনুসরণ করা হয়েছে তাতে কোন পরিবর্তন আসেনি। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থায় আরো কঠোর যাচাই-বাছায়ের মাধ্যমে কৌশলগত ভাবে অস্ত্র রপ্তানি করা হবে বলেও জানান তিনি।

জাপানের এই সিদ্ধান্তকে দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রি পরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরো অবদান রাখবে। অন্যদিকে চীন এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেইজিং বলেছে জাপানের এই পদক্ষেপে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানায় তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের 'দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা' করবে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত