শ্রীপুরে বিএনপি নেতা বাজার ভেঙে জমিতে দিলেন বাঁশের বেষ্টনী  

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে প্রায় দুইশ বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি নেতা ও তার লোকজন। পরে সে বাজারে জমি দখল নিয়ে তাতে হালচাষ করে শাকসবজি বপণ করা হয়েছে। রাতের আঁধারে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চষে শাক সবজি বুনে বাঁশের বেষ্টনীও দেওয়া হয়েছে বাজারের দখলকৃত সে জমিতে।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে এমনি ঘটনা ঘটেছে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বাজারে। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশের সহায়তা বিএনপি নেতারা এ কর্মকান্ডটি করেছে। এতে বাজারে নিয়মিত দোকান করা ব্যবসায়িরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের হাট করার সুযোগ হারাবে।

এ ঘটনায় প্রসাশনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে পুলিশ উপস্থিত থাকার ব্যাপারটি অস্বীকার করেছে। বাজারটির ইজারাদার রুহুল আমিন অভিযোগ করেছেন, রেলওয়ে বিভাগের লিজ রয়েছে এমন দাবি করে কয়েকজন প্রভাবশালী হাটের বেশি অংশটুকু দখল করে নিয়েছে। দখলে নেতৃত্ব দেন বরমী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন। এ সময় তার লোকজন ভাঙচুরে অংশ নেয়।পরে রাতে চাষ করে সে জমিতে শাকসবজি বুনে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রভাবশালী চক্রটির এই দখলবাজির কারণে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো হাটটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এখন অনেক দোকানদার বেকার হয়ে পড়বেন। তাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারটি আগের অবস্থানে আনা হোক।

বরমী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, এটা আমাদের লিজকৃত জমি। আমাদের লিজকৃত জমি থেকে দোকানপাট সরিয়ে সেখানে কৃষিকাজ শুরু করেছি। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, এমন বিষয় আমার নলেজে নাই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পুলিশ থাকার বিষয়টি সত্য নয়। এমনটি হলে আমার নলেজে নিশ্চিয় থাকতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, সাতখামাইর হাটটি অনেক পুরনো। এর কিছু অংশ পড়েছে রেলওয়ের জমিতে। তবে পূর্ব নোটিস ছাড়া রেলওয়ের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া এভাবে যে কেউ উচ্ছেদ চালাতে পারেনা। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। দ্রুত এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।