শুরুটা যখন আনিসুল হক ইমনের ব্যাটে ঝলমলে, তখন যেন স্বপ্ন দেখছিল মোহামেডান ৩০০ রানের সংগ্রহ গড়ার! ডানহাতি ওপেনার খেলেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে না পারার আক্ষেপই থেকে গেল। মাঝপথে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় ভেসে গেল বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত মোহামেডানের ইনিংস থেমেছে ২৬৪ রানে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রনি তালুকদার ও আনিসুল হক ইমন। খানিকটা আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করলেও রনিকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি নাহিদ রানা। পঞ্চম ওভারে ছক্কা-চারে চটজলদি ১৬ রান তোলার পর ওভারের শেষ বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ডানহাতি পেসারের বাইরের ডেলিভারিতে এজ হয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক পারভেজ ইমন।
প্রথম ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে দলকে পথ দেখান আনিসুল ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিংয়ে রান তুলতে থাকেন দুজনেই। ফিফটির দেখা পান আনিসুল, ৪৮ বলে। অঙ্কনও ছুঁতে পারতেন পঞ্চাশ, কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৮ রানে রাকিবুল হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন।
১২৩ রানের সেই জুটির পর হঠাৎই ছন্দপতন। চার নম্বরে নামা তাওহীদ হৃদয় মাত্র ৩ রানেই এলবিডব্লিউ হন রাব্বির বলে। তবে আনিসুলের ব্যাট ছিল দৃঢ়। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ায় মোহামেডান। একপ্রান্তে জমিয়ে খেলেন আনিসুল, ১০৪ বলে কাট করে তুলে নেন ডিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটার দেখান নিজের সামর্থ্য।
তবে সেঞ্চুরির পর থেকেই ক্লান্ত দেখাতে থাকেন আনিসুল। শেষমেশ ১১৮ বলে ১১৪ রান করে শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন জিসান আলমের হাতে। খানিক পরেই মুশফিক ফেরেন, এরপর দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ, ১৮ রানে বোল্ড হন রাকিবুলের নিচু বল মিস করে।
শেষদিকে কিছুটা সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু তিনিও মেরে খেলতে গিয়ে ১৮ রানেই বিদায় নেন। সাইফ উদ্দিনও পারেননি ফিনিশারের ভূমিকায়। তাই প্রায় ১২ ওভার হাতে রেখেও বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে ব্যর্থ মোহামেডান।
আবাহনীর বোলারদের মধ্যে রাকিবুল হাসান ছিলেন সবচেয়ে কিপটে। ৩ মেইডেনসহ ২৩ রানে নেন ২ উইকেট। নাহিদ রানা, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও মাহফুজুর রহমান রাব্বিও নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
২৬৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে এখন ব্যাট করতে নামবে আবাহনী।