ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রতিপক্ষ আবাহনীর বিপক্ষে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চলছিল হাইভোল্টেজ ম্যাচ। এমন ম্যাচে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঠের আবহ হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। শুরুটা হয় আবাহনীর ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুনের এলবিডাব্লিউ বিতর্ক থেকে।
এবাদত হোসেনের করা অষ্টম ওভারের প্রথম বলটি আবাহনী ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুনের পায়ে লাগলে সমস্বরে এলবিডব্লিউর আবেদন জানান মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। কিন্তু আম্পায়ার তানভীর আহমেদ তা আমলে নেননি। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান মোহামেডান ক্রিকেটাররা। রাগের বশে রুমাল ছুড়ে ফেলেন এবাদত, আম্পায়ার তখন নিশ্চুপ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন অন্য আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। তবে মোহামেডান অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় তর্কে জড়ান তার সঙ্গেও। উত্তেজনা বাড়তেই মাঠে হস্তক্ষেপ করেন সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। হৃদয়কে সরিয়ে নিয়ে গেলেও তিনিও কিছুটা বিতর্কে জড়ান। যদিও সেটা সীমা ছাড়ায়নি। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে আসেন হৃদয়। এবার মেহেদী হাসান মিরাজ এসে তাকে থামান। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, এবং খেলা আবার শুরু হয়।
তবে এটিই ছিল না বিতর্কের একমাত্র ঘটনা। এর আগে মিরাজের করা এক ডেলিভারিতে এলবির ফাঁদে পড়েন আবাহনীর ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। এবারও সাড়া দেননি আম্পায়ার সৈকত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ছিল অফস্টাম্পের অনেক বাইরে। কিন্তু মোহামেডান খেলোয়াড়রা তাতে সন্তুষ্ট হননি। মুশফিকও আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে সে সময় বিতর্কটি বড় আকার নেয়নি।
শেষ পর্যন্ত আবাহনীকে ৩৯ রানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান। তবে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে উত্তপ্ত ঘটনার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন অধিনায়ক হৃদয়। তার বক্তব্যে যেন আম্পায়ারদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ স্পষ্ট।
হৃদয় বলেন, ‘সবকিছু এই মুহূর্তে বলব না। হিট অব দ্য মোমেন্ট অনেক কিছুই হয়। মানুষ মাত্রই ভুল, আমরাও ভুল করব। বা আপনার প্রফেশন থেকে আপনিও ভুল করতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়, ভুলটা স্বীকার করা উচিত। আমি যদি ভুল করি, আমি স্বীকার করব।’
এরপর আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে হৃদয় বলেন, ‘অবশ্যই তাকে (শরফুদ্দৌলা) আমরা রেসপেক্ট করি, তিনি আন্তর্জাতিক আম্পায়ার, আমরাও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। এই ম্যাচে যারা ছিল, বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তো... এমন বড় ম্যাচে এক-দুইটা ভুল সিদ্ধান্ত অনেক বড় ব্যবধান তৈরি করে দিতে পারে। শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলে হবে না। আম্পায়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকেও দেখার দরকার আছে।’
ঘটনার বিস্তারিত না বললেও ভবিষ্যতে মুখ খোলার ইঙ্গিত দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘এটা নিয়ে কী হয়েছে, সেটা আমি বলব না। কিন্তু যদি বিষয়টা অন্যদিকে যায়, তাহলে অবশ্যই এটা নিয়ে মুখ খুলব, ইনশাআল্লাহ, আমি খুলব।’
তবে তার এই মন্তব্যের পরই ম্যাচ অফিশিয়ালদের শুনানির মুখোমুখি হন মোহামেডান অধিনায়ক। শুনানি শেষে তাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে হৃদয়কে পাচ্ছে না মোহামেডান।