প্রায় ৯ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটাল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ২০১৬ সালের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে হারানোর স্বাদ পেল ঐতিহ্যবাহী দলটি। গরমে বারবার ক্র্যাম্পে কাবু হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬৩ বলে অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর পৌঁছে যান ৮০ রানে। কিন্তু স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হলে থেমে যায় তার লড়াই। শান্তর বিদায়ের পর ছন্দপতন ঘটে এমনভাবে, শেষ পর্যন্ত ৩৯ রানে হেরে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে দুই দলের পয়েন্ট এখন সমান হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে আবাহনী। তবু মোহামেডানের এই জয় যেমন পয়েন্টের, তেমনি সম্মানের।
মিরপুরের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও আবাহনী লিমিটেড ব্যাট হাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ব্যর্থ হয়। শান্ত ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে পথ দেখালেও শেষটায় ধৈর্যচ্যুতি ঘটান। তিনি যদি আরও একটু ধৈর্য ধরতেন, তবে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির পাশাপাশি হয়তো জয়ও এনে দিতে পারতেন দলকে।
ম্যাচের শুরুতেই দুই ওপেনার ইমন ও জিসান ব্যর্থ হন। তৃতীয় ওভারে মিরাজের বলে জিসান ফিরলে ধাক্কা খায় দলটি। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে একবার বেঁচে যান ইমন, তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি১৬ রানে ফিরেন মিরাজের হাতেই ক্যাচ দিয়ে। এরপর শান্ত-মিঠুনের জুটি ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করে। তবে আম্পায়ারিং নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ইবাদতের একটি বল মিঠুনের প্যাডে লাগলেও আম্পায়ার তাকে নট আউট দেন, তাতে ক্ষুব্ধ হয় মোহামেডান ফিল্ডাররা। যদিও খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি মিঠুন, ১৯ রানে বোল্ড হন মিরাজের বলে।
শান্ত একপ্রান্ত আগলে রেখে এগিয়ে নিতে থাকেন ইনিংস। কিন্তু অন্য প্রান্তে মুমিনুল (২৫), রাব্বি (১), সৈকত (২৪) কেউই সঙ্গ দিতে পারেননি। সেøায়ার ডেলিভারিতে শান্ত স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হলে ধসে পড়ে আবাহনীর ইনিংস। একই ওভারে রাকিবুলকেও ফেরান সাইফউদ্দিন। এরপর রিপন মণ্ডল আউট হয়ে ৪৭.১ ওভারে ২২৫ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বপ্নের সূচনা পায় মোহামেডান। রনি তালুকদার (১৬) দ্রুত ফিরে গেলেও আনিসুল হক ইমন ও মাহমুদুল অংকনের জুটিতে গড়ে ওঠে ১২৩ রানের ভিত্তি। সেঞ্চুরি হাঁকান ইমন, এটি তার ডিপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। ১০৪ বলে ১১৪ রানের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৩ ছক্কা। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর যেন কিছুটা হাল ছেড়ে দেন ইমনও ক্লান্তিতে মনোযোগ হারিয়ে শর্ট বলে ক্যাচ দেন।
অংকন ফেরেন ৪৮ রানে, তাওহীদ হৃদয় করেন ৩ রান। এরপর মুশফিক ও রিয়াদ ১৮ করে রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষ দিকে মিরাজ (১৮) ও সাইফউদ্দিন দ্রুত ফিরলে ইনিংস থামে ২৬৪ রানে। অথচ সুযোগ ছিল আরও ২০-২৫ রান তোলার। প্রায় ১২ ওভার আগেই অলআউট হওয়ায় হতাশাই বাড়ে।
আবাহনীর হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কিপটে ছিলেন রাকিবুল হাসান ১০ ওভারে ৩ মেইডেনসহ ২৩ রানে ২ উইকেট। সমান উইকেট পান নাহিদ রানা, মৃত্যুঞ্জয় ও রাব্বি। তবে মাঝপথে বোলাররা চাপ তৈরি করলেও ব্যাটাররা তা ধরে রাখতে পারেননি।
মিরপুরের উইকেট চ্যালেঞ্জিং না হলেও এই ম্যাচে আবাহনী-মোহামেডান দেখিয়েছে কীভাবে মানসিক চাপ আর ধৈর্যের পরীক্ষায় জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৯ বছর ১১ মাস পর আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডান পেয়েছে শুধু পয়েন্ট নয়, মর্যাদারও জয়।
এই জয়ে দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেছে, যদিও নেট রান রেটে শীর্ষে আছে আবাহনী। তবে মোহামেডানের জয়ে স্পষ্ট ডিপিএলের সুপার লিগ হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ভরা।
গুলশানের জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে প্রাইম ব্যাংককে ৫ উইকেটে হারায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। ২০৪ রানের লক্ষ্য মাত্র ৭৭ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দলটি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বাঁহাতি ওপেনার ও গুলশান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ক্যারিয়ারের প্রথম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে সহজ জয় এনে দেন। ১০৬ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে ছিল ২ ছক্কা ও ১১ চার। খালিদ হাসানের ৩৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংস জয়কে সহজ করে তোলে। ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান আসে সাজ্জাদুল হকের ব্যাটে। ১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে গুলশান, ১০ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক।
মজিদের সেঞ্চুরি
শাইনপুকুরকে ২৮ রানে হারায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন আব্দুল মজিদ, ব্যাট হাতে ৫৬ ও বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক মাহমুদুল হাসান।