অসহ্য রোগযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শিক্ষিকার আত্মহত্যা

বগুড়ার শেরপুরে মাহমুদা খাতুন (৩৫) নামে এক শিক্ষিকা ওড়না দিয়ে বারান্দার গ্রিলে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার পৌর শহরের রামচন্দ্রপুর পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।  

মাহমুদা খাতুন শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখের মেয়ে। তার স্বামী সোহেল রানা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা।  

তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রোকনপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভি পদে কর্মরত ছিলেন। স্বামী সোহেল রানা বর্তমানে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান (প্রভাষক) হিসেবে কর্মরত।  

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ জানিয়েছে, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ এই দম্পতি শুক্রবার রাতে একসাথে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজের জন্য উঠে সোহেল রানা দেখেন স্ত্রী ঘরে নেই। এরপর বারান্দায় গিয়ে তিনি মাহমুদাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গ্রিলের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মৃতদেহ নিচে নামান।  

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।  

প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, মাহমুদা দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা অস্ত্রোপচারের পরও সহজে নিরাময়যোগ্য ছিল না। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েন এবং চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।  

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।