পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে একদিনেই রেকর্ড সংখ্যক ২০১টি ট্রাকে ৮হাজার ৪৩১ টন চাল আমদানি হয়েছে। এদিকে আমদানি বন্ধের খবরে বন্দরে বেড়েই চলেছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালের দাম প্রকারভেদে ২ থেকে ৩ টাকা করে বেড়েছে। আবার কিছু কিছু চালের দাম ৪/৫টাকা করে বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেয়াদ বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের।
এলসিকৃত সকল চাল দেশে প্রবেশের লক্ষ্যে সোমবার পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় বন্দরের আমদানি- রপ্তানি কার্যক্রম খোলা রাখা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চালসহ অন্য পণ্য আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে চাল আমদানির মেয়াদ না বাড়ানো হলে আগামীকাল বুধবার থেকে আর চাল আমদানি হবে না।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, খাদ্য মন্ত্রনালয় কতৃক চাল আমদানির সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ রয়েছে আজ ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত। কিন্তু এখনো অনেক আমদানিকারকদের এলসিকৃত চাল ভারতে ট্রাক বোঝাই অবস্থায় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। আবার অনেক আমদানিকারকদের শিপমেন্ট পুরন হয়েছিল না। কোন কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে চাল আমদানি হলে ৬২.৫ ভাগ শুল্ক দিতে হবে আমদানিকারকদের। এখন শুল্কমুক্ত হিসেবে চাল আমদানি হচ্ছে কিন্তু শুল্ক পরিশোদ করতে হলে অনেক টাকা লোকশান গুনতে হবে আমদানিকারকদের। তাই এলসিকৃত সকল চাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রবেশের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাস্টমস কতৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটির দিনেও বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি চালু রাখা হয়। এতে করে সোমবার বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে তবে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেগুলো খালাস হয়নি।
তিনি জানান,সোমবার বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২১৩ট্রাক পণ্য আমদানি হয় যার মধ্যে ২০১ ট্রাক ছিল চাল। আজ সকাল থেকে বন্দর থেকে সেসব চাল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি শুরু হওয়ায় চালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।
তবে আজকের মধ্যে সব চাল দেশে প্রবেশ করবে কিনা সংশয় রয়েছে। তারপরেও ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জানিয়েছি তারা যেন আজকে চালের ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি করে। তবে দেশীয় নতুন ধান উঠতে আরো একমাস মতো সময় বাকি রয়েছে। তাই দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেয়াদ আরো একমাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। এতে করে আমদানি স্বাভাবিক থাকার সাথে সাথে সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম স্বাভাবিক থাকতো।
এছাড়া ইতোমধ্যেই আমদানি বন্ধের খবরে দেশের বিভিন্ন মোকামে যেমন চালের চাহিদা বেড়েছে তেমনি দাম কিন্তু বাড়তির দিকে রয়েছে।