জলবায়ু পরিবর্তন: পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন কেন জরুরি

বিশ্বের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এডিবির ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত মৌসুমী বন্যার কারণে এদেশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ডুবে যায়। ফলে প্রতি বছর গড়ে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১.৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগ হওয়ার পূর্বেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলে এলাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় এবং মূল্যবান জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।

দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতির ধারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে এদেশে বিশেষ করে বন্যার ক্ষেত্রে, আগাম সাড়াদানের তুলনায়, দুর্যোগ পরবর্তী সাড়াদান বা দুর্যোগ বাবস্থাপনা বেশি দৃশ্যমান। পূর্বাভাস-ভিত্তিক পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারলে যে কোনো বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু পূর্বে বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে পূর্বাভাসভিত্তিক সাড়াদানের কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রচলিত ছিল না।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি অতীব দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, বজ্রপাত এবং নদী ভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়শই ঘটে থাকে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলায় ‘পূর্বাভাস ভিত্তিক অর্থায়ন’ বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর প্রস্তুতিমূলক পদ্ধতি হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক সৃষ্ট বন্যা ব্যবস্থাপনায়, সময়োপযোগী ও সাশ্রয়ী সমাধান দিতে পারে।

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, এবং সমাজব্যবস্থার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী  নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে, তার মধ্যে বন্যা অন্যতম। এছারাও বন্যার জন্য লিড টাইম বা প্রস্তুতিমূলক সময় পাওয়া যায় প্রায় ৫ দিন। ঘূর্ণিঝড়ের জন্য এই সময়টা মাত্র ২৪ ঘণ্টা বা এক দিন। কাজেই পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের চাইতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার জন্যই বর্তমানে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

এ প্রেক্ষাপটে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন (ফোরকাস্ট বেসড ফাইন্যান্সিং-এফবিএফ) বন্যার ক্ষয়ক্ষতির মোকাবেলায় একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এফবিএফ বাংলায় ‘পূর্বাভাস ভিত্তিক অর্থায়ন’ নামে সুপরিচিত, যা উদ্ভাবনী জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব নিরসনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর প্রস্তুতিমূলক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী স্বয়ংক্রিয় প্রাক-অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করে।

এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি নির্ভরযোগ্য অংশ, যেখানে ঝুঁকি-ভিত্তিক পূর্বাভাসগুলো বিবেচনা করা হয় এবং পূর্ব নির্ধারিত সতর্কতা কেন্দ্র করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে মেসেজ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচিত, সুনির্দিষ্ট হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়।

পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের উপকারিতা

১. পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তার চাহিদা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২. ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস করে।

৪. খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে।

৫. স্থানীয় হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত করা ও এলাকাভিত্তিক দল গঠনে সহায়তা করে। ফলে এলাকাভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সামাজিক-বন্ধন, নেটওয়ার্ক নেতৃত্ব ও কর্মসংস্থানের সুযোগসৃষ্টি করা হয়।

৬. বন্যাকবলিত এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের কার্যকর ও বহুবিধ ব্যবহার দলগতভাবে শিখানো হয়।

‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’ মূলত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত এলাকায় নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর দ্রুত প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য, একটা সুনির্ধারিত পরিমাণে আর্থিক সহায়তা বা নগদ টাকা, উক্ত জনগোষ্ঠীর হতদরিদ্র পরিবারের নির্বাচিত নারী সদস্যদের প্রেরণ করে। পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো, মানবজীবন রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবেলা করা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কিছুটা সহজ হয়।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের উদ্যোগ

১. জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নিজস্ব তদারকিতে ও কিছু স্থানীয় এনজিওর পরিচালনায় উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সর্বপ্রথম বন্যাদুর্গত প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে বিবেচনায় নিয়ে বিগত তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’-এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই অঞ্চলের নির্বাচিত প্রতিটি হতদরিদ্র পরিবারের একজন নারী সদস্যকে বন্যার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে, পূর্ব প্রস্তুতির জন্য নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে বন্যা শুরু হবার কমপক্ষে পাঁচ/চার দিন আগেই পাঠানো হয়।
 
ডব্লিউএফপির পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এই আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এই প্রজেক্টের মূল অর্থায়নে আন্তর্জাতিক দাতা হিসেবে ছিল কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কাইকা) ও জার্মান সরকার। সাহায্যপ্রাপ্তদের মধ্যে কেবলমাত্র শারীরিকভাবে অক্ষম, বয়োবৃদ্ধ ও ১০০% স্থানীয় হতদরিদ্র নারীরাই আছেন।

২. কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সাপোর্টি ফ্লাড ফোরকাস্ট বেসড একশন অ্যান্ড লার্নিং (সুফল) প্রজেক্টের মাধ্যমে বর্তমানে গাইবান্ধা, জামালপুরে, বগুড়া ও কুড়িগ্রামে বিভিন্ন স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় বন্যা মোকাবেলায় ২০১৯ সাল হতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’ বা অ্যান্টিসিপেটরি ফিন্যান্সের উদ্যোগে প্রাক-বন্যা মোকাবেলার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক কাজ করছে।

৩. রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও জার্মান রেড ক্রস: এফবিএফ বা পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন উদ্যোগের আওতায় প্রাক-বন্যা মোকাবেলার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক কাজ করছে।

৪. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং জিআইজেড: বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর জন্য সঠিক সময়ে স্থানীয় পূর্বাভাস প্রদান এবং দ্রুত অর্থ /তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি), কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও জার্মান রেডক্রসকে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করছে।

৫। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের কিছু সংস্থা: পরীক্ষামূলকভাবে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের আরও কিছু সংস্থা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা

জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত আসার আগেই প্রাক-প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগনের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সুযোগ তৈরি করছে।১. দ্রুত প্রস্তুতি প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট  দুর্যোগগুলো ক্রমেই অপ্রত্যাশিত এবং তীব্র হয়ে উঠছে। নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাসের ভিত্তিতে অর্থায়ন সরবরাহ কিছু দুর্যোগ, যেমন বন্যার আগেই কার্যকর জননিরাপত্তা মূলক পদক্ষেপ নেওয়া নিশ্চিত করতে পারে।

২. মানবিক ক্ষতি হ্রাস: পূর্বাভাসভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম, যেমন: আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা, খাবার ও পানির মজুদ, দুর্যোগের আগে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক ক্ষতি (মৃত্যু সম্ভবনা) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে।

৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এফবিএফ বা পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে কার্যকর হওয়ায় এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেয়।

৪. প্রকল্পের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: পূর্বাভাসভিত্তিক উদ্যোগগুলো কম সময়ে এবং কম খরচে নির্ধারিত এলাকায় ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।

৫. জলবায়ুজনিত দুর্যোগ-পরবর্তী চাপ কমানো: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ, যেমন বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন খরচ পূর্বের থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নে এই ব্যয় তুলনামূলকভাবে হারে কমতে পারে। উদাহরণ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’-এর সময় রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবহার করে।

৬. ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ণে যাওয়ার প্রচেষ্টা নিশ্চিত করে।

৭. বন্যাদুর্গত এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করে।

৮. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত আয়বর্ধন কাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

প্রয়োগিক প্রতিবন্ধকতা

১. পূর্বাভাসের নির্ভুলতা: এই কথা অনস্বীকার্য পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের সফলতা নির্ভর করে ১০০% নির্ভুল ও যথা সময়ে স্থানীয় জলবায়ুর  তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার ওপর। অনেক সময় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে পূর্বাভাসে নানা অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। ফলে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন প্রদানে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময়ে বিলম্ব হতে পারে। 

২. তহবিলের প্রাপ্যতা: নির্ধারিত সময়ে তহবিল সংগ্রহ ও বরাদ্দ অনেক সময় বেশ কঠিন হতে পারে।

৩. স্থানীয় সক্ষমতা: স্থানীয় সরকার ও জনগণের দক্ষতার অভাব, পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের যথাযথ প্রয়োগ কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে।
৪. সমন্বয় ঘাটতি: বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নে মাঠ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৫. নির্ধারিত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (নারীদের) দলগত অংশগ্রহণ: সম্মিলিত ও সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (নারীদের) দলগত অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপরে জলবায়ুজনিত বন্যার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে।

যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে

১. উন্নত প্রযুক্তি নিশ্চিতকরণ: নির্ভুল পূর্বাভাসের জন্য উন্নত জলবায়ু পূর্বাভাসপ্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত তহবিল গঠন: পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

৩. পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন কার্যক্রমে স্থানীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় সম্প্রদায়কে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্ত করা।

৪. স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধি: পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের সফলতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত প্রশমন পদক্ষেপ। এটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল কাঠামো প্রদান করে। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহিষ্ণুতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। হ্রাস করতে পারে জাতীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা। 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইজিএম)
anwar.hossain@bigm.edu.bd