একটি ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা আইনে স্পষ্ট বলা আছে। সেই আইন মানছেন না ভবন মালিকরা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ ও ডেকোরেশন করে থাকেন অনেকে। রাজধানীর ডেমরায় আবাসিক এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণাধীন ভবন উচ্ছেদ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছে রাজউক।
সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিচালক মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে আজ বুধবার দুপুরে ডেমরার পূর্ব হাজিনগর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নির্মাণাধীন ৩ ভবনের কাজ বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে ক্ষণিকালয় নামে ১০ তলা একটি ভবনে নগদ এক লাখ ও আইয়ুব নবী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভবনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দুই ভবনের দেয়ালের নকশাবহির্ভূত অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাজউকের অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ভবন মালিকরা রাজউকের অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে ১০ ও ৭ তলা ভবন নির্মাণ করেছে। অভিযানকালে ভবন মালিকরা তাদের নির্মাণ অনুযায়ী যথোপযুক্ত রাজউকের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে ক্ষণিকালয় ভবনের পরিচালক হাফিজ আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, টাকা ছাড়া রাজউকে কোনো প্ল্যান পাস হয় না। এক একটি প্ল্যান পাস করতে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। আর রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে আমরা কোনও কাজ করিনি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ চলমান রেখেছি। অথচ ৫ আগস্টের পর নতুন করে আবারও নিয়ম বানিয়েছে রাজউক। বিগত দিনে এই অঞ্চলের কোনও ভবন মালিক রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেনি। কিন্তু কারও না কারও অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
এ উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন রাজউকের পরিচালক (জোন-৬) শামীমা মোমেন, অথরাইজড অফিসার জোন-৬/২ জান্নাতুল মাওয়া, সহকারী অথরাইজড অফিসার শাহনাজ খানম, প্রধান ইমারত পরিদর্শক নজরুল ইসলাম মনি, বাসুদেব ভট্টাচার্য, ইমারত পরিদর্শক ফিরোজ আলম, নাজিম উদ্দিন, মারুফ হোসেন, অমিত হাসান, মিল্লাত হোসেন, মো. শাহ আলম, মলয় চন্দ্র রায়, হায়াত মাহমুদ শামীম ও আল জুবায়ের প্রমুখ। এ সময় অভিযানে সহযোগিতা করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সারুলিয়া ডিপিডিসি দল ও ডেমরা থানা পুলিশ।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে রাজধানীতে যত ভবন নির্মাণ হয়েছে নীতিমালা ভঙ্গ করে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা সরকার নিবে। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে বর্তমানে ভবন নির্মাণে কোনও প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি চলবে না। আমরা সরেজমিন দেখেছি ভবন নির্মাণকারীরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে সড়কে নির্মাণ সামগ্রী দেখে মানুষের চলাচলকে বিঘ্নিত করছে। আর ভবন নির্মাণে রাজউকের কোনও প্রকার নীতিমালা তারা মানছে না। তাই আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে যে অভিযান পরিচালনা করছি এতে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তারা ভবিষ্যতে রাজউক নীতিমালা ভঙ্গ করে কোনো প্রকার কাজ না করেন। বিশেষ করে নীতিমালা ভঙ্গ করে যারা কাজ করে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে। পরিমাণ মতো জায়গা না ছেড়ে কাজ করলে অভ্যন্তরীণ সড়ক অপ্রশস্ত হয়ে যায়। আর ভবনের চারপাশ খোলামেলা না রাখলে আগুন লাগাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনও প্রকার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসসহ কোনও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারে না।