সংস্কার নেই গণপরিবহনে

রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা কিছুতেই ফেরানো যাচ্ছে না। নতুন সরকার আসার পর বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার করা হলেও পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি। ফলে গণপরিবহনের যাত্রীদের ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলছে না। কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত না করায় কোনো সংস্কার আলোর মুখ দেখেনি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কারের ছিটেফোঁটা নেই পরিবহন খাতে। বরং উল্টো পথেই রয়েছে সড়কের শৃঙ্খলা।

রাজধানীতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মাধ্যমে চালু করা হয় ই-টিকেটিং পদ্ধতি ও কাউন্টারভিত্তিক বাস সার্ভিস। নতুন পদ্ধতিতে গাজীপুর থেকে ঢাকা সড়কের বিভিন্ন রুটে প্রথম অবস্থায় ২১টি কোম্পানির ২৬১০টি বাস চালু করা হয়। সব গাড়ির রঙ নির্ধারণ করা হয় গোলাপি। নতুন এ ব্যবস্থার পাঁচ দিন যেতে না যেতেই এসব গাড়ির শ্রমিকদের ভেতর অসন্তোষ শুরু হয়। ফলে সমিতির নতুন উদ্যোগ কাজে আসেনি। অন্যদিকে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গাবতলী-চাষাঢ়া রুটে বোরাক পরিবহনের ৩৫টি এসি বাস দিয়ে যাত্রা করেছে গ্রিন ক্লাস্টার। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় বেশিরভাগ সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের বেশি অপেক্ষায় থাকতে হয়। অন্য রুটগুলো চালু না করায় কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লক্কড় ঝক্কড় বাস রঙ করলেই শৃঙ্খলা আসবে না। সড়কে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হয়। এভাবে কি চলে! টেকনিক্যাল বুদ্ধি কাজে লাগাতে হয়। সড়ক যারা পরিচালনা করেন তাদের বেশিরভাগ আমলা। তারা গণপরিহনে চলাচল করেন না। তারা যদি চলাচল করতেন তাহলে মানুষের যে ভোগান্তি হয়, তা চোখে পড়ত। তাছাড়া আমাদের বাসের কাঠামো ঠিক নেই। এখনো ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস সড়কে চলাচল করে। সড়কশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। আগের সরকারও আমাদের যাত্রীদের কোনো কমিটিতে রাখত না। এখন বৈষম্যবিরোধী সরকার। তারাও যাত্রীদের কোনো কমিটিতে রাখছে না।’

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন সড়কের দায়িত্বে ছিল। তাদের জন্য সড়কে শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না। আমাদের নানা উদ্যোগ তারা নষ্ট করে দেয়। আজও (শনিবার) মালিক সমিতিতে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য বৈঠক হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও একটি বৈঠক হওয়ার কথা। আমরা চাই পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে।’

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা উল্টো দিকে হাঁটা দিয়েছে। সংস্কারের ছিটেফোঁটা নেই পরিবহন খাতে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। বিআরটিএ সড়কে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে এখনো পুরনো বাস চলাচল করে। শ্রমিকদের এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু হলেও তা এখন বিদ্যমান নেই। এসব সমস্যার যদি সমাধান না হয়, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) সম্প্রতি গ্রিন ক্লাস্টার চালু করেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। ৪০০টি নতুন বাস নামানোর জন্য এ প্রকল্প। আমরা চাচ্ছি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে মে মাস থেকে ২০ বছরের পুরনো বাস আর চলাচল করতে পারবে না। বিআরটিএ বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।’