আমাদের ব্যর্থতার জন্যই ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছে: ফাহিম

বাংলাদেশের ক্রিকেটে গতকাল শুক্রবার যা ঘটল, তা ইতিহাসে বিরল। মোহামেডানের ক্রিকেটাররা রীতিমতো মব তৈরি করে তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তি এক বছর স্থগিত করালেন। বিসিবিও বাধ্য হলো এই দাবি মেনে নিতে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। এর মাঝেই নিজেদের ভুল স্বীকার করলেন বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

গত ১২ এপ্রিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ম্যাচ চলার সময় আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন হৃদয়। ম্যাচের পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আম্পায়ারদের নিয়ে মন্তব্য করায় সেই নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে করা হয় দুই ম্যাচ। সেই নিষেধাজ্ঞা হুট করেই পরে আবার এক ম্যাচে নামিয়ে আনা হয়। সমালোচনার মুখে আবারও টেকনিক্যাল কমিটির দেওয়া আগের শাস্তিই বহাল করা হয়, তবে তা এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।

যেখানে সাকিব আল হাসানের মতো সুপারস্টার ছাড় পাননি, সেখানে তরুণ একজন ক্রিকেটারের শাস্তি নিয়ে এত নাটক কেন হবে? তাছাড়া বিসিবির এই পদক্ষেপ কি ঠিক হলো? এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত লিখিত নিয়মের বাইরে যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আগের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হলো। পরপর দুটি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটা না করে ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া ছিল ভুল এবং অনিয়ম। আবার সেখান থেকে সরে এলে ক্রিকেটাররাও সুযোগ পেয়েছে বিসিবির ভুল ধরার। আমাদের ব্যর্থতার কারণেই এতকিছু হতে পেরেছে।’

এদিকে বিসিবি এক বিবৃতিতে হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা ও তার স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে, সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো_

“১৯ এপ্রিলের নিদের্শনা (মেমো) অবৈধ হওয়ার পর টেকনিক্যাল নির্দেশিকা অনুযায়ী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় বহাল করা হয়। তবে বাতিল করা সেই নিদের্শনার ফলে যে বিভ্রান্তি ও প্রক্রিয়াগত বিঘ্ন ঘটেছে, তা সতর্কভাবে বিবেচনার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০২৪-২৫-এর টেকনিক্যাল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দুই ম্যাচের ওই নিষেধাজ্ঞা এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হবে।”

“খেলাটির শুদ্ধতা তুলে ধরা, চলমান টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং ক্রিকেট সম্প্রদায়ের একতা ও স্পোর্টসম্যানশিপের স্পিরিটকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে এই সুবিবেচিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সকল সিদ্ধান্ত যেন সর্বোচ্চ ন্যায্যতা, স্বচ্ছ্বতা ও বিসিবির প্রবিধান অনুযায়ী হয়, এটা নিশ্চিত করায় টেকনিক্যাল কমিটি বদ্ধ পরিকর।”

১৯ এপ্রিল আম্পায়ার্স কমিটির দেওয়া সেই নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে আগে না জানালেও এখন তা বাতিল করার কথা উল্লেখ করা হয় এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

“সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানাচ্ছে যে, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে আম্পায়ার্স কমিটি যে নির্দেশনা জারি করেছিল, সেটি পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করেছে টেকনিক্যাল কমিটি।”

“বিশদভাবে মূল্যায়ন করে টেকনিক্যাল কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, প্রচলিত টেকনিক্যাল প্রবিধান ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে উল্লিখিত ওই নির্দেশনা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এজন্যই ওই নথির কোনো সুপারিশ বা সিদ্ধান্তকে বাধিত বা প্রয়োগযোগ্য বিবেচনা করা হবে না।”

''ঢাকা মহানগরীর ক্রিকেট কমিটি কর্তৃক পরিচালিত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০২৪-২৫-এর সাধারণ তথ্যের ১৪ নম্বর ধারার আলোকে, টেকনিক্যাল কমিটি শুধুমাত্র তখনই নিয়মাবলি ও আচরণবিধি সংশোধনের অধিকার সংরক্ষণ করে, যখন বিসিবির CCDM তাদেরকে এ বিষয়ে রেফার করে।"