হিলিতে রসুনের দাম কমল কেজিতে ৪০ টাকা 

দিনাজপুরের হিলিতে পাঁচদিনের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে কমেছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সরবরাহ এমন থাকলে দাম বাড়বেনা বলে দাবি বিক্রেতাদের। রসুনের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। রসুনের দাম যেন আগেরমত অবস্থায় আসে সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই রসুন শোভা পাচ্ছে। ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন আকারের পর্যাপ্ত পরিমাণে রসুন দেখা যাচ্ছে দোকান গুলোতে। সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দাম কিছুটা নিম্নমুখী লক্ষ্য করা গেছে। পাঁচদিন পূর্বে প্রতি কেজি রসুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো কোন কোন দোকানি বাড়তি দামে রসুন কেনা হওয়ায় আগের দামেই বিক্রি করছেন। 

হিলি বাজারে রসুন কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, রমজান থেকে শুরু করে ঈদের পর পর্যন্ত রসুনের দাম বেশ কম ছিল। ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম আমরা। এতে করে টাকাও যেমন কম লাগছিল তেমনি চাহিদা মোতাবেক আমরা পণ্যটি কিনতে পারছিলাম। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। ছোট আকারের রসুন ১০০ টাকা, মাঝারি ১৪০ ও বড় আকার ১৬০ টাকা হয়ে যায়। বাড়তি দামের কারণে আমাদের কিনতে যেমন সমস্যা হচ্ছিল তেমনি দামের পরিমাণ কমাতে সমস্যা হচ্ছে। আগে যেখানে এককেজি কিনতাম সেখানে হাফকেজি কিনি। তবে কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখীর পর আবারো দাম কমতে শুরু করেছে। এখন ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে রসুন পাওয়া যাচ্ছে এতে আমাদের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু যে হারে একলাফে কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছিল সেই মোতাবেক তো দাম কমেনি। তাই আমরা চাই আগের মত অবস্থায় আসুক যাতে আমাদের কিনতে সুবিধা হয় সেই দাবি জানাচ্ছি আমরা। 

হিলি বাজারের রসুন বিক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, যেহেতু আমাদের অঞ্চলে রসুন আবাদ হয় না। যদি বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি হয় তাহলে সেটি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা হয়। যেহেতু এখন বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি বন্ধ রয়েছে। তাই নাটোর থেকে রসুন এনে স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। রসুনের ভালো সরবরাহ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই রসুনের দাম কমতে শুরু করে। তবে আগে কৃষকরা ক্ষেত থেকে যে রসুন উঠাতেন সেটি কিছুটা কাঁচা থাকায় কম দামে বিক্রি করছিলেন। কিন্তু এখন ক্ষেত থেকে রসুন উঠানো শেষ পর্যায়ে অধিকাংশ রসুন শুকনা হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। 

এছাড়া অনেক কৃষক রসুন বাড়তি দামের আশায় বাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখছিলেন। তাই হঠাৎ করেই মোকামে রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে অনেক ক্রেতা বাজার থেকে বাড়তি রসুন কিনে বাড়িতে রসুন সংরক্ষণ করছিলেন। এতে করে রসুনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামের উপর প্রভাব পড়ছিল। মোকামে ৩ হাজার থেকে ৩২০০ টাকা মন দরের রসুন বেড়ে ৫ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হয়ে যায়। বর্তমানে রসুনের বাড়তি দামের কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে ভারত থেকে রসুন আমদানির গুঞ্জন শুরু হয়েছে।  

এছাড়া বাড়তি দামের কারণে মোকামগুলোতে প্রশাসনের নজরদারির একটা প্রভাব পড়েছে। এতে করে যারা রসুন মজুত করেছিলেন তারাও বাজারে রসুন ছাড়তে শুরু করায় মোকামে রসুনের সরবরাহ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে রসুনের দাম কমে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ফলে আমরাও আগের চেয়ে কম দামে কিনতে পারায় সেই মোতাবেক কম দামে বিক্রি করছি।