প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহামেডানের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আবাহনী। শনিবার কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বড় একটা সময় দশজনের দল নিয়ে খেলেছে মোহামেডান। চির শত্রুর এই দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আবাহনী। ম্যাচটা শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। তাতে দুদলের ব্যবধান আগের মতো চার পয়েন্টই থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ মোহামেডানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর নিজেদের সেরা সুযোগটাই হাতছাড়া করেছে আবাহনী। দিনের অপর ম্যাচে রহমতগঞ্জের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বসুন্ধরা কিংস শিরোপা লড়াই থেকে আরও দূরে সরে গেছে। ময়মনসিংহে লিগের আরেক ম্যাচে ব্রাদার্স ২-০ গোলে হারিয়েছে তলানিতে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীকে।
গত ডিসেম্বরে লিগের প্রথম পর্বে আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল মোহামেডান। গতকাল কুমিল্লায় ম্যাচের ৪২ মিনিটে সরাসরি লালকার্ড দেখতে হয় মোহামেডানের মাহবুব আলমকে। আবাহনীর সুমন রেজাকে কনুই দিয়ে মুখে আঘাত করে বল কেড়ে নেওয়ার বড় শাস্তি পেতে হয় মাহবুবকে। যা আবাহনীর জন্য বড় সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু আবাহনীর খেলায় সেই ধার ছিল না। উদ্দেশ্যহীন ফুটবলে তারা গোলের দেখা পায়নি। ফলে বড় বাঁচা বেঁচে গেছে মোহামেডান। প্রধান প্রতিপক্ষর কাছে হার এড়িয়ে পেশাদার যুগে প্রথম শিরোপার পথে আরও এগিয়ে গেল সাদা-কালোরা। ১২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩১ পয়েন্ট। আবাহনীর সমান ম্যাচে ২৭। বসুন্ধরা তিন নম্বরে আছে ২১ পয়েন্ট নিয়ে। আর তাদের রুখে দেওয়া রহমতগঞ্জ চারে আছে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে।
অথচ কোনো দল গোল না পেলেও এই ম্যাচটা আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে হয়ে উঠেছিল উপভোগ্য। শুরুতে দুদলই গোলের চেষ্টা করে গেছে। তবে দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর মোহামেডান মনোযোগ দিয়েছে ঘর সুরক্ষায়। তাতে আবাহনীর আক্রমণ গড়ার সুযোগ পায়। শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল তারা। তবে ফিনিশারদের দুর্বলতা ও মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনের দৃঢ়তায় কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায়নি আবাহনী।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে একটুর জন্য গোল পাননি আবাহনীর ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। ৩৯ মিনিটে গোল পেতে পারত মোহামেডান। সতীর্থের ক্রস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বের হয়ে গিয়ে ঠিকঠাক বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পেরে সুযোগ হারান আরিফ হোসেন। এর তিন মিনিট পর ঘটে লাল কার্ড কা-। বল দখল নিতে লড়াই করতে গিয়ে সুমন রেজার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করে বসেন মাহবুব আলম। যা চোখ এড়ায়নি রেফারি সায়মন হাসানের। সরাসরি লালকার্ড দেখিয়ে দেন মাহবুবকে। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে ফুঁসে ওঠে মোহামেডানের গ্যালারি। মাঠে ফ্লেয়ার, পানির বোতল ও ঢিল ছুড়তে দেখা যায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা। এ সময় খেলা বন্ধ থাকে বেশ কিছুক্ষণ। মোহামেডানের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা গ্যালারির কাছে গিয়ে সমর্থকদের শান্ত করার পর শুরু হয় খেলা।
বিরতি থেকে ফিরে আবাহনী চেষ্টা করেছে গোল পেতে। ৬৫ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট হয় তাদের। রাফায়েলের চার্জে বক্সে বল হারান মোহামেডান ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান মিঠু। রাফায়েল বলের নাগাল পাওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট নেন গোলকিপার সুজন হোসেন। তবে সেই বল পেয়ে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে ফাঁকা পোস্টে বল রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। ছয় মিনিটে পর সুলেমানে দিয়াবাতের ক্রসে মোজাফ্ফরভের শট দূরের পোস্ট গলে বেরিয়ে গেলে গোল পাওয়া হয়নি মোহামেডানও। ৮০ মিনিটে রাফায়েলের কর্নারে সুমনের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফিরিয়ে দেন মোহামেডান কিপার সুজন। এর একটু পর রাফায়েলের হেড শাকিল আহাদ তপু গোললাইন থেকে আটকে দিলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আবাহনীকে।