শেখেরটেকে কিশোরীর আত্মহত্যা: ন্যায়বিচারের দাবিতে নারীপক্ষের আহ্বান

রাজধানীর শেখেরটেকে ধর্ষণ ও পরবর্তী লাঞ্ছনার শিকার কিশোরী অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে শেখেরটেক ৬ নম্বর রোডের বি/৭০ নম্বর বাড়িতে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। 

জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় ওই কিশোরী বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে নলদোয়ানী এলাকায় সাকিব ও সিফাত নামে দুই যুবক তার পিছু নেয়। পরে পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষণকারীরা তার নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

প্রাথমিকভাবে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশের গড়িমসির শিকার হন ভুক্তভোগী কিশোরী। পরে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাধ্য হয়ে মামলা গ্রহণ করে এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায় এবং এরপর থেকে মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী কিশোরীর বিরুদ্ধে চলতে থাকে নানা অপপ্রচার, কুৎসিত মন্তব্য ও চরিত্রহননের চেষ্টা। এই মানসিক চাপ ও সামাজিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে ওই ভুক্তভোগী আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি  ভুক্তভোগীর ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত বিচারপ্রক্রিয়া ও মানসিক সহায়তার অভাবের ফল।’

নারীপক্ষের দাবিসমূহ:

ধর্ষণকারী ও পরবর্তী লাঞ্ছনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।

পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি, দুর্নীতি ও অসাধু প্রভাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

ধর্ষণের শিকার নারীদের জন্য নিরাপত্তা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা।

সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার ও নারীর প্রতি সর্বস্তরে সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করা।

নারীপক্ষ আরও জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারীকে ওই ভুক্তভোগী কিশোরীর মতো নির্মম পরিণতির শিকার না হতে হয়, সে জন্য অবিলম্বে সর্বস্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।