ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

‘সমাধানের’ পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের

অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হামলার পর উত্তেজনা বিরাজ করছে দুই চির বৈরি দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) দুই দেশের মধ্যে গুলি বিনিময়ের খবর প্রকাশ হয়েছে। এমন অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সংযম প্রদর্শনের’ আহ্বান জানিয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাঠানো এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত ও পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ রাখছি।’ দায়িত্বশীল সমাধানের জন্য সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘চীন আশা করে দুই পক্ষ সংযম দেখাবে, মাঝপথে একে অপরের সঙ্গে দেখা করবে। সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমে মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে সমাধান করে যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।’

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জিয়াকুন বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হবে এমন সব পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় চীন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যানসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটন ভারতের পাশে রয়েছে এবং পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা করছে।

হামলার পর প্রকাশ্যে ভারতের প্রতি সমর্থন জানালেও পাকিস্তানের সমালোচনা করেনি মার্কিন সরকার। সৌদি আরব ও ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী ভারত ও পাকিস্তান ‘বিষয়টির সমাধান বের করে আনবে’।

এর আগে গত ২২ এপ্রিলের ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক। ২০০০ সালের পর বিতর্কিত হিমালয় অঞ্চলে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সশস্ত্র হামলাগুলোর একটি।

হামলার পর থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি রুটিন প্রস্তুতির মহড়া বলে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স।

২৩ এপ্রিল ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি স্থগিত করে। পরদিন পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্থগিত রাখার হুমকি দেয় এবং ভারতীয় বিমানের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।

বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হামলাকারীদের ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ পর্যন্ত তাড়া করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, যারা এই হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছে তাদের ‘কল্পনার বাইরে শাস্তি দেওয়া হবে’।

ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্যদের কাছ থেকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান উঠেছে।

এদিকে শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পহেলগাঁও হামলার ঘটনা তদন্তে পাকিস্তান ‘সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’। তবে ভারত পাকিস্তানে কোনো হামলা চালালে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।