এনসিপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

কক্সবাজার সদর উপজেলায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এনসিপির স্থানীয় নেতা রাইয়ান কাশেমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম রয়েছে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কাশেমেরও।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিহত আলী আকবরের স্ত্রী এলমুন্নাহার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা রাইয়ান কাশেম (৩০), তার বাবা জাহাঙ্গীর কাশেম (৬০), চাচা তানভীর কাশেম (৫০), মাঝেরঘাট এলাকার মোহাম্মদ আনোয়ার (৫০), টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল এলাকার মোহাম্মদ হোছাইন ওরফে হোছেন (২৮), এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ পুঁইছড়ি এলাকার মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (১৯)।

রাইয়ান কাশেম কক্সবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতা। তার বাবা জাহাঙ্গীর কাশেম একসময় ছাত্র শিবিরের আলোচিত নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

এই মামলায় তিনজন আসামিকে—প্রধান আসামি রাইয়ান কাশেম, মোহাম্মদ হোছাইন ও মিজানুর রহমান—গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, বাদী এলমুন্নাহার বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এজাহারভুক্ত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, মামলা ও রাইয়ান কাশেমের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ছাত্র ও যুবসমাজ। এনসিপির কর্মীদের অংশগ্রহণে মশাল মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা মামলা প্রত্যাহার এবং রাইয়ান কাশেমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

প্রসঙ্গত, রোববার মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের আল্লাওয়ালা এলাকায় একটি হ্যাচারিতে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত আলী আকবর কুলিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও আলী আহমদের ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, মাছ চুরির মিথ্যা অভিযোগে আলী আকবরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড।

অন্যদিকে, গণপিটুনির ঘটনার আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে রাইয়ান কাশেম দাবি করেন, তাদের হ্যাচারিতে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন আলী আকবর। এ সময় তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা আঘাত করেন। এর ফলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান রাইয়ান।