যুক্তরাজ্যে বসবাসের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে যারা নতুন আসেন তারা আসার পরই প্রত্যেকেই একটা নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হন সেটা হলো ‘ফ্রেশি’। ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এই শব্দটি অতি পরিচিত একটা শব্দ। মুলত নতুনদের অজ্ঞতা বুঝানোর জন্যই শব্দটি ব্যবহার করেন ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা। বিদ্রুপাত্মক এই শব্দটি ব্যবহার করার মাধ্যমে কমিউনিটিতে নতুনদের অনেকটা হেয় করা হয়।
জানা যায়, যুক্তরাজ্যে নানা দেশের নানা বর্ণের মানুষদের বসবাস থাকলেও অন্য কোন কমিউনিটিতে এরকম কোন বিদ্রুপাত্মক শব্দ ব্যবহার করার প্রচলন নেই। শুধুমাত্র বাঙালি কমিউনিটিতে এই ‘ফ্রেশি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। নতুনদের উদ্দেশ্যে মুলত পুরনো প্রবাসীরাই শব্দটি ব্যবহার করেন।
ইংরেজি শব্দ ‘ফ্রেশ’ থেকে এই ‘ফ্রেশি’ শব্দটি এসেছ। ৮০ এর দশকে ইস্ট লন্ডন থেকে শব্দটির প্রচলন শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাজ্যে যখন সেকেন্ড জেনারেশনের আবির্ভাব ঘটে তখন থেকে যারা নতুন যুক্তরাজ্যে আসতো তাদের উদ্দেশ্য করে পুরাতনরা শব্দটি ব্যবহার করতেন। ফ্রেশি বলতে তারা বুঝানোর চেষ্টা করতেন নতুন মানুষটি ইংরেজি ভাষা জানেনা। এই দেশের আচার আচরণ কিংবা চলাফেরা জানেনা। কাপড়চোপড় পরিধান কিংবা এই দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে সে অজ্ঞ। নতুনদের এই অজ্ঞতাকেই ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা ইংরেজিতে নাম দিয়েছেন ফ্রেশি। যেটি ৮০ এর দশক থেকে এখনও চলমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই শব্দটি এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশী মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে। কারণ দেশ থেকে নতুন আসা বাংলাদেশীদের কাজের অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে এসব ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। আর এখানেই তারা সবচেয়ে বেশি বুলিং এর স্বীকার হন। কাজে সামান্য হেরফের হলেই পুরনো স্টাফদের কাছে শুনতে হয় বিদ্রুপাত্মক শব্দ ‘ফ্রেশি’।
এ বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আসা এক প্রবাসী জানান, ‘তিনি বাংলাদেশী মালিকানাধীন একটি টেইকওয়েতে কাজ করে। সেখানে তাকে কাজে ভুল করলেই ফ্রেশি বলে সম্বোধন করা হয়। একটা পর্যায়ে তাকে সিনিয়র কলিগরা নাম ধরে ডাকার পরিবর্তে ‘ফ্রেশি’ বলা শুরু করেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি কাজটি ছেড়ে দেন।’
এ বিষয়ে আবিদুর রহমান নামের একজন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে আসার পর প্রথম আত্মীয়ের মাধ্যমেই এই বুলিং এর স্বীকার হই। এটা খুবই খারাপ একটা কাজ। শব্দটি খুব সাধারণ হলেও আপনি যখন শুনবেন তখন আপনি মনোবল হারিয়ে ফেলবেন। নিজেকে অসহায় লাগবে। পুরনো প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ আপনারাও একটা সময় নতুন ছিলেন। কেউ পুরাতন হয়ে এই দেশে আসেনা। তাই নতুন কেউ আসলে তাকে উৎসাহ দিন। দয়া করে শব্দটি পরিহার করুন।’
যুক্তরাজ্যের একমাত্র বাঙালি কমিউনিটির ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেজলিং ডনের প্রকাশক সিনিয়র সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কতটা সাম্প্রদায়িক বা বর্ণবাদী সেটা এই ফ্রেশি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝা যায়। এছাড়া যারা এই শব্দ ব্যবহার করেন তাদের মা-বাবাও যখন এই দেশে এসেছিলেন তারাও তো নিশ্চয় ফ্রেশি ছিলেন। সেক্ষেত্রে তারা ফ্রেশির সন্তান। এই ফ্রেশি শব্দ বর্ণবাদী আচরণের আরেক রুপ। এটা পরিহার করা উচিত।
‘ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলা কারও জন্য মঙ্গল বলে আনবে না’
পাকিস্তানে হামলা নিয়ে যা বলছেন ভারতের রাজনীতিবিদরা