নওগাঁর রাণীনগরে একটি কুচক্রী মহলের বাধা ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও চলমান রয়েছে কুজাইল বাজার থেকে কাশিমপুর রাজবাড়িগামী গ্রামীণ রাস্তাটির উন্নয়নমূলক কাজ। এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে সরকারের উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটাতে কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তেমনি উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে নেতিবাচক ধারণা—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা ওই রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। আংশিক ইট বিছানো ও অধিকাংশ জায়গায় কাঁচা থাকায় হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছিল। সেই দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণে হাত দিয়েছে। এ কাজের জন্য ইটের খোয়া সংরক্ষণের প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি ভুল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রকল্পটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. খলিল প্রামাণিক জানান, বহুদিন পর এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে খোয়া সংরক্ষণের স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত কাশিমপুর কলেজ মাঠে সাময়িকভাবে তা রাখা হয়েছে। বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে এখানে কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে এই জমি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কিছু ব্যক্তির মালিকানা বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। ফলে জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কখনও সেখানে খেলাধুলা হয়, আবার মাঝে মধ্যেই অবৈধভাবে দখলেও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০০৪ সালে নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই সড়ক উন্নয়নের সময়ও এই জায়গাটি একইভাবে কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। সরকার বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নকাজের জন্য এই জমিটি ব্যবহার করে এসেছে। সে ধারাবাহিকতায় এবারও রাস্তার উন্নয়নকাজে সাময়িকভাবে খোয়া রাখা হয়েছে, যা কারও জন্য সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, নানা জটিলতা পেরিয়ে এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু করা গেছে। হাজারো মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এ রাস্তাটি জরুরি। অথচ কিছু ব্যক্তি ইটের খোয়া রাখাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট থাকায় কাজ কিছুটা বিলম্বিত হলেও দ্রুতই খোয়া কাজে লাগানো হবে। অথচ যারা ওই ফাঁকা জমিতে বছরের পর বছর আবর্জনা ফেলে রেখেছে, তাদের ব্যাপারে কারও কোনো প্রশ্ন নেই। তাই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিয়ে সরকারের উন্নয়নকাজে সবার সহযোগিতা কাম্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, রাস্তার পাশে খোয়া রাখলে পথচারীদের চলাচলে অসুবিধা হতো। তাই পরিত্যক্ত ওই মাঠে তা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। দ্রুতই সেসব খোয়া রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গুণগত মান নিশ্চিত করে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।