দরজায় কড়া নাড়ছে দুই সিরিজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। আগামী মাসে আবার পাকিস্তানে। দুটোই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ শুরু এই দুই সিরিজ দিয়েই। তার আগে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারের দেখা গেল নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করতে।
দুই সিরিজকে সামনে রেখে চলমান এই অনুশীলনের তৃতীয় দিন ছিল আজ। প্রথম দিন থেকেই অনুশীলনের মনযোগী ছাত্র সৌম্য। যেন দুর্বলতা কাটিয়ে প্রতিপক্ষকে এক বিন্দুও ছাড় দিতে চান না তিনি। একই রূপে ধরা দিলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। অফ-স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে এজ হয়ে আউট হন সৌম্য। বিশেষ করে স্লিপ বা উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে। ফাস্ট বোলারদের অফ-স্টাম্পের বাইরে সুইং বা সিম মুভমেন্ট করা ডেলিভারি তাকে সমস্যায় ফেলে। স্পিনারদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ফুটওয়ার্ক ঠিকমতো হয় না, বিশেষ করে লেগ স্পিন বা গুগলি খেলায়। আসন্ন সিরিজগুলোতে এই ভুলগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ তার।
শান্তর দুর্বলতা আবার লেগ সাইডে। তিনি অনেক সময় লেগ স্টাম্পের দিকে পিচ করা ডেলিভারিতে টাইমিং মিস করেন। কখনোবা শরীর ঘুরিয়ে খেলার চেষ্টা করেন। স্পিনাররা যদি মিডল-লেগ লাইনে শর্ট লেংথে বল করে, সেখানে শান্ত অনেক সময় বল পড়ে যাওয়ার আগে শরীর ঘুরিয়ে ফেলেন। ফলে শটের উপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অনুশীলনে তিনি আজ সেই দুর্বলতাগুলো নিয়েই কাজ করেছেন। আসন্ন দুই সিরিজে নিজের সেরাটাই দেওয়ার লক্ষ্য তার।
ব্যাটিং অনুশীলনে ছিল ভিন্নতা ও পরিকল্পনার ছাপ। দুই ব্যাটারই এদিন বোলিং মেশিনের সাহায্য নিয়েছেন। উইকেটের মাঝ বরাবর রাখা হয়েছিল একটি স্টিলের পাত্র, যাতে মেশিন থেকে বের হওয়া গতিময় ডেলিভারিগুলো সেই পাত্রে পড়ে গিয়ে স্পিন নিতে শুরু করে। এই কৌশলগত সেটআপেই নিজেদের স্পিন মোকাবেলার দক্ষতা যাচাই করেন শান্ত ও সৌম্য। শান্ত খেলেছেন লেগ সাইড ঘিরে দৃষ্টিনন্দন শট, তুলে মারার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে সৌম্য ছিলেন অফ সাইডে চড়াও, কাভার ও পয়েন্ট অঞ্চলে কয়েকটি নিখুঁত টাইমিংয়ে বড় শট বের করে আনেন তিনি। তবে ডেলিভারিগুলো স্টাম্প বরাবর এলে দুজনকেই দেখা গেছে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সামলে খেলতে। মাঠের মাঝের উইকেটটিতে সদ্য সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান মুরাদ চালিয়ে যান তাদের বোলিং ড্রিল। পুরো অনুশীলন সেশনটি গভীর মনোযোগে পর্যবেক্ষণ করেছেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্ট।
এমন অনুশীলনে স্পষ্ট, আসন্ন সিরিজে স্পিন-চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ দল আগেভাগেই নিতে চাইছে প্রস্তুতি। মিরপুরের উইকেট কিংবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ—যাই হোক না কেন, ব্যাট হাতে আস্থার ছবি আঁকতে প্রস্তুত শান্ত-সৌম্য।