“আমরাই তো ‘চাষার লিগ’, তাই না?”—সেমিফাইনালে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে হারানোর পর টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতেই বললেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) কোচ লুইস এনরিকে। তার এই মন্তব্য যেন কটাক্ষের জবাবে ছুঁড়ে দেওয়া ঠাট্টা—এমন ঠাট্টা, যেটি ব্যথা দিতেও জানে।
অনেক বছর ধরেই ফুটবল দুনিয়ার একাংশ লিগ আঁ-কে ‘ফার্মারস লিগ’ বলে খাটো করে। কারণ একটাই—পিএসজির একচ্ছত্র আধিপত্য। শেষ ১৩ মৌসুমে ১১ বার শিরোপা প্যারিসের দখলে। কিন্তু এই আধিপত্যের সঙ্গে ইউরোপে সাফল্যের অভাব মিলিয়ে তৈরি হয় এই তকমা—ফার্মারস লিগ! যেন মাঠে পেশাদার ফুটবলার নয়, চাষারা খেলে!
তবে এবার সেই ‘চাষার দল’ই চাষ করেছে ইংলিশ জায়ান্টদের বাগান! চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে একে একে বিদায় করে দিয়েছে চার-চারটি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব—ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা এবং শেষতক আর্সেনাল।
সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আর্সেনালকে হারায় ১-০ গোলে। ফিরতি লেগে প্যারিসে ২-১ জয় এনে দেয় ৩-১ সমন্বিত জয়, নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। ম্যাচ শেষে এনরিকে বলেন:
“দুই লেগ মিলিয়ে আমরা বেশি গোল করেছি, এটাই ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আর্সেনাল দুর্দান্ত খেলেছে, আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।”
পিএসজির এই যাত্রা ছিল যেন এক রূপকথা। গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচেই হারের মুখ দেখে তারা। আর্সেনালের কাছে ২-০ গোলে হারও ছিল সেই হতাশার অংশ। কিন্তু সেই দলটিই পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইউরোপের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেয় ফাইনালে।
গোলরক্ষক দোনারুম্মার দুর্দান্ত সেভ, তরুণ ফরোয়ার্ডদের ছন্দে থাকা এবং এনরিকের কৌশল মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অপ্রতিরোধ্য পিএসজি। কোচ বললেন:
“লিগ পর্বের কঠিন সময়গুলো আমাদের দলকে আরও শক্ত করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, আমরা ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। ছোট টুর্নামেন্টে কার্যকারিতা সবচেয়ে জরুরি, সেটা আমরা দেখাতে পেরেছি।”
এবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও ইন্টার মিলান—মে ৩১ তারিখে মিউনিখের অলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। ইন্টার ড্রামার মধ্য দিয়ে শেষ চার থেকে ছিটকে দিয়েছে এনরিকের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাকে, ৭-৬ সমন্বিত স্কোরে।
২০২০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গিয়েছিল পিএসজি। এবার আবার সেই সুযোগ—কিন্তু আরও শক্তিশালী মানসিকতা, অভিজ্ঞতা আর নিজেদের প্রমাণ করার ক্ষুধা নিয়ে।
এবার কি 'চাষার দল' সত্যি সত্যিই ‘ইউরোপের রাজা’ হয়ে উঠবে?