কাভারাডোনা জাদুতে বায়ার্নকে স্তব্ধ করে পিএসজি টানা দ্বিতীয় ফাইনালে

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১০:২৪ এএম

গোল করা হোক বা করানো—পিএসজির জন্য বর্তমানে অপরিহার্য নাম খভিচা কাভারাৎস্কায়া, ফুটবল বিশ্ব যাকে এখন একনামে কাভারাডোনা বলে ডাকছে। বুধবার রাতে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। আর এই জয়ে আবারও পার্থক্য গড়ে দিলেন ২৫ বছর বয়সী এই জর্জিয়ান তারকা।

প্রথম লেগে পিএসজির ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন এই কাভারাডোনা। আর দ্বিতীয় লেগে গোল না পেলেও তার জাদুকরী অ্যাসিস্টেই ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে এগিয়ে যায় প্যারিসের ক্লাবটি। মাঝমাঠ থেকে বায়ার্নের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে ফাবিয়ান রুইসের দিকে বাড়ানো তার ফ্লিট-পাসটি ছিল দেখার মতো। এরপর রুইসের ফিরতি পাস পেয়ে বাঁ-দিক দিয়ে দৌড়ে উসমান দেম্বেলেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান তিনি। দেম্বেলের শক্তিশালী শটটি বায়ার্নের জালে জড়ালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পিএসজি।

কাভারাডোনাকে নিয়ে দেম্বেলে ও মার্কিনহোসের উদযাপন

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই কাভারাৎস্কায়া তথা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মোনাকো, চেলসি এবং লিভারপুলের বিপক্ষে আগের রাউন্ডগুলোতেও তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ নৈপুণ্য। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির হয়ে সর্বোচ্চ ১০টি গোল এখন তার দখলে। বায়ার্নের বিপক্ষে ফিরতি লেগের শেষ মুহূর্তেও তার ক্লান্তিহীন দৌড় প্রায় দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেন, “বায়ার্নের মতো দলের বিপক্ষে আমাদের খেলোয়াড়রা যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি খুবই তীব্র এবং কঠিন একটি লড়াই ছিল। আমরা টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।”

৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের ফাইনালে লড়াই হবে দুই শক্তিশালী দল পিএসজি ও আর্সেনালের মধ্যে। গত মঙ্গলবার অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লন্ডনের ক্লাবটি।

রেফারিকে ধুয়ে দিলেন কোম্পানি

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির দাবি, রেফারির বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচের একটি পর্যায়ে ভিতিনহার ক্লিয়ার করা বল বক্সের ভেতর জোয়াও নেভেসের হাতে লাগলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে বায়ার্ন। কিন্তু রেফারি তা নাকচ করে দেন। ম্যাচ শেষে কোম্পানি বলেন, “হ্যান্ডবল নিয়ে নিয়মগুলো আমি বুঝি। কিন্তু প্রথমবার যখন ক্রস থেকে পেনাল্টি দেওয়া হলো না, তখন বলা হলো বল শরীর ছুঁয়ে হাতে লেগেছে। অথচ দ্বিতীয়বার নেভেসের হাত বাতাসে ছিল, বল হাতে লেগেছে। কিন্তু যেহেতু বলটি তার সতীর্থের কাছ থেকে এসেছে, তাই পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এটা হাস্যকর এবং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত।”

সেই হ্যান্ডবল

পেনাল্টি ছাড়াও পিএসজি ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) না দেখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কোম্পানি। কনরাড লাইমারকে করা একটি ফাউলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল রেফারি মেন্দেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন মেন্দেসের অলরেডি একটা কার্ড আছে, তাই তাকে আর বের করতে চাননি। তিনি সিদ্ধান্ত উল্টে দিলেন এবং লাইমারের হ্যান্ডবলের অজুহাত দিলেন। অথচ আমি কয়েকটা অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেছি, লাইমার হাতে বল লাগাননি।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত