সীমান্ত উত্তেজনা গড়াল ক্রিকেট মাঠেও। ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে স্থগিত হলো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশ। টুর্নামেন্টের অবশিষ্ট আটটি ম্যাচ এবার আয়োজন করা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানায়, ম্যাচগুলোর দিন-তারিখ ও ভেন্যু পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুতই নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা।
এর আগে গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে করাচি কিংস ও পেশোয়ার জালমির মধ্যকার ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই ঘটল বিপত্তি। স্টেডিয়ামের পাশেই ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে জরুরি বৈঠকে বসে পিসিবি। সেখানেই উঠে আসে পিএসএল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব।
বিদেশি ক্রিকেটারদের উদ্বেগ বুঝেই দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে পিসিবি। বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন, যেখানে তারকারা নিরাপদ বিকল্প হিসেবে আরব আমিরাতের পক্ষে মত দেন। এরপরই টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসে।
পাকিস্তান দাবি করছে, তাদের বিভিন্ন এলাকায় যেসব ড্রোন হামলা হয়েছে, সেগুলোর পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। বিপরীতে ভারত জানায়, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ভারতীয় পক্ষের ভাষ্যমতে, গত এপ্রিলের কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়াতেই পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
যে কারণেই হোক, সামরিক এই উত্তেজনার ধাক্কা পড়েছে পিএসএলের মঞ্চে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন আদৌ কতটা নিরাপদ?
আরব আমিরাতে পিএসএল আয়োজন অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালের প্রথম আসরের পুরোটা, ২০১৭ সালের ফাইনাল বাদে বাকি ম্যাচগুলো এবং ২০২১ সালের করোনাকালীন আসরও হয়েছে এই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে। ফলে অভিজ্ঞতা আছে, মাঠ প্রস্তুত আছে, বাকি শুধু সূচি চূড়ান্ত করা।
মূল সূচি অনুযায়ী, বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে চারটি হওয়ার কথা ছিল রাওয়ালপিন্ডিতে, একটি মুলতানে ও তিনটি লাহোরে। কিন্তু ড্রোন হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আরব আমিরাতই হলো নতুন ঠিকানা।
পিএসএলের ম্যাচগুলো বিলম্বিত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে পাকিস্তান জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচিতে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৮ মে পিএসএলের ফাইনালের পর ২১ মে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। ২৫ মে ফয়সালাবাদে মাঠে গড়ানোর কথা পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি।
তবে নতুন পরিস্থিতিতে এই সিরিজ হবে কি না, কিংবা সূচি বদলাবে কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি পিসিবি। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।’
সামনের দিনগুলোতে ক্রীড়া আর রাজনীতি কীভাবে পরস্পরের ওপর প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।