শেষ পর্যন্ত নিজেকে ফিরে পেলেন মেসন মাউন্ট। দীর্ঘ ২০ মাসের অপেক্ষা, চোট আর ফর্মহীনতার যন্ত্রণা ভুলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে জ্বলে উঠলেন ইংলিশ তারকা। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত জোড়া গোলে ফাইনালে উঠেছে রুবেন আমোরিমের শিষ্যরা। ২১ মে বিলবাওতে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আরেক ইংলিশ ক্লাব, টটেনহাম হটস্পার।
পুরো ম্যাচে ছিল স্নায়ুচাপ, ভুলের ছড়াছড়ি আর অনিশ্চয়তা। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরতি লেগে নিজেদেরই বিপদে ফেলেছিল ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে বিলবাওয়ের হয়ে মিকেল জাউরেগিজারের ৩০ গজ দূর থেকে করা গোল তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব মেসন মাউন্টের। মাত্র ১০ মিনিট মাঠে ছিলেন, এর মধ্যেই লেনি ইয়োরোর ছোট্ট পাস ধরে প্রতিপক্ষ বক্সে টার্ন করে বুলেট গতির শটে বল জড়ান জালে। ইউনাইটেডের হয়ে এটি তার তৃতীয় গোল হলেও তা ছিল নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই গোলেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় বিলবাওয়ের ইতিহাস গড়ার আশার প্রদীপ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খেলা আরও জমে ওঠে। ক্যাসেমিরো ও রাসমুস হইলুন্ডের গোলে ব্যবধান বাড়ায় ইউনাইটেড। ম্যাচের ক্লাইম্যাক্সে আবারও আলো ছড়ান মাউন্ট—৪৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল জাল ছোঁয়ান ফাঁকা পোস্টে।
দুই লেগ মিলিয়ে ৭-১ ব্যবধানে জিতে ইউরোপা লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউনাইটেড। যদিও স্কোরলাইনটা যতটা বলছে, ম্যাচটা তত সহজ ছিল না। বরং দীর্ঘসময় ধরে বলের দখল, আক্রমণে ধার—সবই ছিল বিলবাওয়ের পক্ষেই। তবে গোলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা।
চেলসি থেকে ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আসার পর চোটে জর্জরিত হয়ে পড়েন মাউন্ট। জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য থেকেও ক্লাব ক্যারিয়ারে পড়েন ছন্দহীনতার খাঁচায়। কিন্তু আমোরিম শুরু থেকেই মাউন্টকে নিজের ছকে উপযুক্ত একজন হিসেবে দেখেছেন—চাইলেই খেলাতে পারেন মাঝমাঠে কিংবা অ্যাটাকিং রোলে।
ফাইনালের আগে এমন পারফরম্যান্স মাউন্টের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে। তার দুইটি গোলেই ছিল আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত ফিনিশিং আর পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এটি হতে যাচ্ছে তাদের নবম ইউরোপীয় ফাইনাল। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টটেনহামকে হারাতে পারলে মিলবে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট, সঙ্গে অন্তত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের রাজস্ব। হারলে? পুরো মৌসুমের হতাশার খতিয়ান সামনে চলে আসবে আবার।
দলের বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও আছে। ক্যাসেমিরো আবারও ছন্দে ফিরেছেন, হইলুন্ড গোল করছেন, আমাদ দিয়ালোও ফিরেছেন ইনজুরি থেকে। তবে সমস্যা আছে রক্ষণে—হারি ম্যাগুইয়ারের বড় ভুলে হজম হয়েছে গোল, গারনাচোও মিস করেছেন নিশ্চিত সুযোগ।
সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দের মাঝেও শিষ্যদের ভুলে অস্বস্তিতে রুবেন আমোরিম। তার আশা—এই ভুলগুলো যেন আর মাথা না তোলে ২১ মে, বিলবাওয়ে, টটেনহামের বিপক্ষে ইংলিশ দ্বৈরথে।
ব্রিস্টলে দাপুটে জয়ে ফাইনালে এক পা হামজার শেফিল্ডের
বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর অনিশ্চিত