স্বামীর ঘরে যাওয়া হলো না আফসানার, সড়কেই লাশ

একমাস পরেই আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূর বেশে স্বামীর ঘরে যাওয়ার কথা ছিল আফসানার। বধূ বেশে আর স্বামীর ঘরে যাওয়া হলো না তার। বাবা, মা ও একমাত্র ভাইয়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবে আফসানা। বাড়িতে চলছ শোকের মাতম। একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ায় স্বজনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ঘরের আঙ্গিনায় পাশাপাশি ৪ জনের কবর খুড়ছে এলাকাবাসী। এ ছাড়া হাফেজ সামাদের  মসজিদের মুসল্লি ও মাওলানা বিল্লাল হোসেনের মসজিদের মুসল্লিরা প্রিয় ইমামকে হারিয়ে তাদের ছাড়া নামাজ আদায় করতে যান মনে কষ্ট নিয়ে।

‎এ দৃশ্য মুন্সিগঞ্জের অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালি গ্রামের নিহত ৫ জনের একই পরিবারের চারজনের বাড়িতে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নারীসহ পাঁচজন নিহত হন। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী গ্রামের হাফেজ আব্দুস সামাদ ফকির ( ৬৫), তার স্রী সাহেদা বেগম (৫২)  তার ছেলে বিল্লাহ ফকির (৩৬) , মেয়ে আফসানা (১৮) ও অ্যাম্বুলেন্স চালক। অপরজনের নাম জানা যায়নি।

‎জানা যায়, মাদারীপুরের সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী এলাকার কাজীবাড়ি মসজিদের ইমাম বিল্লাল ফকিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩০) অন্তঃসত্ত্বা। চলতি মাসের ২৩ তারিখ তার বাচ্চা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ। তবে গতরাত থেকে তার ব্যথা হচ্ছিল। প্রথমে মাদারীপুর শহরের আচমত আলী খান সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাতে পরিবারটির ১০ জন মিলে ঢাকার পথে আসছিলেন। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ছিল। পথিমধ্যে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদ্দি খা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়। আহত হয় বিল্লালের স্ত্রী রোজিনা বেগম।