বজ্রপাত থেকে কৃষকদের জীবন রক্ষার কৌশল শেখালো এসএসটিএএফ

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

দেশে বজ্রপাতে বেশি মৃত্যু হয় কৃষকদের। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বজ্রপাতে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৭২ জন, যাদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করা কৃষক। এ প্রেক্ষাপটে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’  (এসএসটিএএফ) বজ্রপাত থেকে কৃষকদের সুরক্ষায় কৌশল কৃষকদের জীবন রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। 

মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার (১ মে) মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে শতাধিক কৃষকের মাঝে বজ্রপাত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি। একইসঙ্গে কৃষকদের নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়। সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জানানো হয়। এগুলো হলো খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ দেখলেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই গাছের নিচে অবস্থান করা যাবে না এবং মাঠে কাজের সময় অবশ্যই পায়ে জুতা পরিধান করতে হবে।

এসএসটিএএফ-এর একাধিক প্রতিনিধি দল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে এসব পরামর্শ দেন। এসময় কৃষকদের মাঝে কোমল পানীয়, শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়। সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলিম, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবীরা। 

এ সময় রাশিম মোল্লা বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি মার্চ থেকে জুন এই চার মাস নিয়মিত বজ্রপাত সচেতনতা কার্যক্রম চালানোরও আহ্বান জানান তিনি।

যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ জানান, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে বড় গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা। এতে খোলা মাঠে মানুষের ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত