পুরস্কারের চেয়ে বিশ্বাসই বড়, ফাইনাল উঠে আমোরিম

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ রুবেন আমোরিম মনে করেন, ইউরোপা লিগ জয়ের মধ্য দিয়ে যে আত্মবিশ্বাস মিলবে, তা অর্থনৈতিক লাভের চেয়েও বেশি মূল্যবান।স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিক বিলবাওকে দুই লেগ মিলিয়ে মোট ৭-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষ আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার। এই ম্যাচ জিতলেই কেবল শিরোপা নয়, ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগও মিলবে। যা ক্লাবটির আয় বাড়াবে আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড।

তবে আমোরিমের কাছে অর্থ নয়, বিশ্বাসই তার দলের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, 'টাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিরোপা জেতা মানে এক অনুভূতি—আমরা ভালো কিছু করতে পারি, আমরা সমর্থকদের কিছু দিতে পারি। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার বিষয় নয়, বরং অনুভবটা—আমরা কিছু বদলাতে পারি।'

তবে বিলবাওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ইউনাইটেড ম্যাচে ফিরতে সময় নেয় ৭০ মিনিট। এরপর মেসন মাউন্টের দুই গোল ও কাসেমিরো-রাসমুস হইলুন্ডের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়।

তবুও দলের অনিশ্চিত পারফরম্যানস নিয়ে নিজেকেই দায়ী করলেন আমোরিম, 'আমার আরও ভালো কোচ হওয়া উচিত ছিল এই মুহূর্তে। দলটারও আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। ইউরোপে আমরা ভালো করলেও প্রিমিয়ার লিগে অনেক সংগ্রাম করেছি।'

এই মৌসুমে টটেনহ্যামের কাছে তিনবার হেরেছে ইউনাইটেড। ফেব্রুয়ারিতে স্পার্সদের মাঠে সর্বশেষ হারের পর প্রিমিয়ার লিগে জয় মাত্র দুটি—ইপসউইচ ও লেস্টারের বিপক্ষে।

তবে লিগ টেবিলে টটেনহ্যামের চেয়েও ওপরে আছে ইউনাইটেড। দুই দলের কোচের ভবিষ্যৎও প্রায় অনিশ্চিত। টটেনহ্যাম কোচ আঞ্জে পোস্তেকোগলু মৌসুম শেষে পদত্যাগ করতে পারেন বলেই গুঞ্জন।

আমোরিম বলেন, 'দুই দলই সবকিছু দিয়ে খেলবে। দুই কোচের অবস্থানও একরকম। পোস্তেকোগলুর মেয়াদ আরও এক বছর, কিন্তু আমরাও চাপের মধ্যেই আছি।'

এই ম্যাচে ইউনাইটেডের বিশেষ আনন্দের কারণ ছিলেন মেসন মাউন্ট। চেলসি থেকে ৫৫ মিলিয়নে আসা এই মিডফিল্ডার চোটের কারণে মূলত দর্শক হয়েই কেটেছেন। তবে এবার নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন।

একটি গোল করেছিলেন পাস পাওয়ার পর দুর্দান্ত বাঁকানো শটে। অন্যটি মাঠের অর্ধেক থেকে প্রায় ৪৫ গজ দূর থেকে, যখন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গোলবার ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

২৬ বছর বয়সী মাউন্ট বললেন, 'গোলরক্ষককে বাইরে দেখে মনে হচ্ছিল, বল এলে প্রথম ছুঁয়ে শট নেব,” চেয়েছিলাম বাঁ পায়ে না আসুক। তারপর শুধু লক্ষ্য ছিল বলটা পোস্টের মধ্যে রাখতে।'

এটাই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার প্রথম গোল। ম্যাচ শেষে আমোরিম বললেন, 'মেসনের জন্য সবাই খুশি। সে দলের জন্য সবকিছু করছে। দুই গোলই ছিল অসাধারণ।'