লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার পর আসন্ন ক্লাব বিশ্বকাপ ও আগামী মৌসুমকে ঘিরে দলে বড় রদবদলের পরিকল্পনা করছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এ প্রেক্ষাপটে ক্লাব ছাড়াতে পারে ১৬ ফুটবলারকে। যাদের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনার তিন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। তারা হলে রদ্রিগো ডি পল, নাহুয়েল মোলিনা ও আনহেল কোরেয়া।
চলতি মৌসুমে পিএসজি, সিয়াটল সাউন্ডার্স ও বোটাফোগোর মতো ক্লাবের সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চে মুখোমুখি হবে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ওই প্রতিযোগিতা শেষেই দলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা। গত গ্রীষ্মে ১৩ জন খেলোয়াড় ছাড়ার পর যেমন জুলিয়ান আলভারেসের মতো নতুন কিছু মুখ এসেছে, আবার কিছু তরুণকে গুরুত্ব দিয়ে গড়া হয়েছে ‘অস্পর্শনীয়’ তালিকা। যেমন গোলরক্ষক ইয়ান ওব্লাক, ডিফেন্ডার মার্কোস জোরেন্তে ও রবিন লে নরমঁ, মিডফিল্ডার পাবলো বারিওস এবং ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সোরলথ।
নতুন মৌসুমের জন্য যেসব পজিশনে খেলোয়াড় চায় আতলেতিকো, তার মধ্যে আছে একজন কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার, ব্যাকআপ গোলরক্ষক এবং একজন বাঁ পাশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। সম্ভাব্যভাবে ক্লাবের নজরে আছে টটেনহামের ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো ও ভিয়ারিয়ালের উইঙ্গার আলেক্স বায়েনা। রিভার প্লেটের উঠতি তারকা ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর দিকেও নজর আছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে এঞ্জো ফার্নান্দেজকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে তারা।
নতুন খেলোয়াড়দের কেনার জন্য প্রয়োজন বড় বাজেট। আলভারেস, সোরলথ, লে নরমঁ ও কনর গ্যালাঘারের মতো খেলোয়াড়দের জন্য ২০০ মিলিয়নের বেশি খরচ করতে হতে পারে। এজন্যই চালু হয়েছে ‘অপারেশন এক্সিট’। এর আওতায় যেসব খেলোয়াড় ক্লাব ছাড়তে পারেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জোয়াও ফেলিক্স, আলভারো মোরাতা, সামু ওমোরোদিওন, সাউল নিগেজ, স্টেফান সাভিচ, মারিও হেরমোসো, মেমফিস ডিপাই ও কার্লোস মার্টিন।
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আনহেল কোরেয়ার সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্ক যেন শেষ পর্যায়ে। এক দশকেরও বেশি সময় ক্লাবের হয়ে খেলার পর তার সঙ্গে ক্লাবের ‘চক্র শেষ’ বলে মনে করছে দুই পক্ষই। যদিও তার চুক্তি ২০২৬ পর্যন্ত আছে।
রদ্রিগো ডি পলও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রস্থানের তালিকায়। ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার (যার ৩১তম জন্মদিন ২৪ মে) ভালো মৌসুম কাটালেও এখনো চুক্তি নবায়ন করেননি। ক্লাব ভাবছে তার চাহিদা মেনে নেবে কি না, নাকি বড় কোনো প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করবে। ডানদিকের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নাহুয়েল মোলিনাকে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও তার জন্যও যদি ভালো প্রস্তাব আসে, তাহলে তা বিবেচনা করা হবে।
সিজার আজপিলিকুয়েতা, অ্যাক্সেল উইটসেল ও রেইনিল্ডোদের চুক্তি শেষের পথে। আর ধার শেষে ক্লেমোঁ ল্যাংলে ও হুয়ান মুসোর ফিরে আসার কথা, তাদের রেখে দেওয়া হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সাউল নিগেজকেও সেভিয়ায় ধার শেষে ফিরিয়ে আনা হবে না। এ ছাড়াও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে রদ্রিগো রিকেলমে, টমাস লেমার ও হাভি গালানকে। তবে সব থেকে আলোচনায় আছেন সামুয়েল লিনো, যিনি হতে পারেন মূল বিক্রয়যোগ্য সম্পদ।
অন্যদিকে, ক্লাবের প্রাণভোমরা কোকে ও আঁতোয়ান গ্রিজমানকে রাখা হবে ‘অস্পর্শনীয়’। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের জন্য। তবে স্পেনের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিজমান হয়তো ক্লাবের হয়ে তার শেষ ম্যাচগুলো খেলে ফেলছেন। এ গ্রীষ্মেই তাই আতলেতিকো মাদ্রিদের ইতিহাসে অন্যতম ব্যস্ত ও পরিবর্তনশীল ট্রান্সফার উইন্ডো হতে যাচ্ছে।