বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইনগত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার। নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলে গণহত্যাসহ তাদের শত সহস্র অপরাধ ঢাকা পড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
আজ শনিবার সকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, দেশে জবরদস্তি করে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চালাতে গিয়ে অনেক আগেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটেছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়েও আরেকবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আইনি সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি যতটা না আইনগত তার চেয়ে বেশী রাজনৈতিক বিষয়। সে কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয় রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে মতৈক্য প্রয়োজন। আর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের মতো দলকে নিষিদ্ধ করা সংকটের সমাধান নয়, বরং তাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংগঠনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর করে তোলাটাই বেশী জরুরী। আর মতৈক্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হলে সেটা আইনগত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সমীচীন। তা নাহলে এটা নিয়ে দেশে বা আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে।
তিনি আরো বলেন, কোনো নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে গেলে একদিকে আওয়ামী লীগের শত সহস্র অপরাধ ঢাকা পড়ে যাওয়ার আশংকা আছে, আর অন্যদিকে উল্টো আওয়ামী লীগের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতিও তৈরি হতে পারে।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার দ্বৈত ভূমিকা দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারা সরকার চালাচ্ছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে দেশত্যাগ করতে দেওয়া হচ্ছে, আবার অন্যদিকে নীতি নির্ধারকেরা কেউই তার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। সরকার গঠনের ৯ মাস পরেও যদি এই ধারা চলতে থাকে তাহলে সরকারের বিশ্বাসযোগতা ও কার্যকারিতা বলে কিছু থাকে না। যত দিন যাচ্ছে সরকারের মধ্যেই নানা সরকার, নানা কেন্দ্র বেরিয়ে আসছে। দুই দিন আগে এক উপদেষ্টার বক্তব্যেও তার স্বীকৃতি মিলেছে।
তিনি বলেন, সমগ্র পরিস্থিতি এক ধরনের নৈরাজ্যকে উসকিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে দিলে গণঅভ্যুত্থানের অবশিষ্ট অর্জন বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। মানুষ যদি এটা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, এই সরকারের আর কোনও কার্যকারিতা নেই তাহলে সামনে বিপদ আরও বেড়ে যাওরার আশংকা আছে। সেক্ষেত্রে সংস্কার নির্বাচন সবই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আলাপ-আলোচনার পথে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে উভয় দেশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফিরোজ আলী, কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী জামাল সিকদার, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।