বিদায়বেলায় অপূর্ণতা সঙ্গী সার্চ কমিটির

গত বছর ২৯ আগস্ট ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারের উদ্দেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল সার্চ কমিটি। ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/সংস্থাগুলোর গঠনতন্ত্র, নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণে সংস্কার প্রস্তাব পেশ করাই ছিল এই কমিটির মূল দায়িত্ব। তবে ‘মূল’ রেখে এই কমিটিকে এতদিন পালন করতে হয়েছে ‘অতিরিক্ত’ দায়িত্ব। সরকারের অনুরোধে আলোচনা, পর্যালোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটির সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। সার্চ কমিটি সোমবার শেষ বৈঠকে ২৪টি কমিটির নাম প্রস্তাব করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে। সব মিলিয়ে ৫৩টি ফেডারেশনের নাম প্রস্তাব করেছে কমিটি। তবে মূল যে দায়িত্ব, সেই নীতিমালা ও গঠণতন্ত্র প্রণয়নের কাজটাই ঠিকঠাক করতে পারেনি তারা। এর জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন কমিটিপ্রধান যোবায়দুর রহমান রানা।

সার্চ কমিটি এর আগে ২৯টি কমিটির নাম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে সুপারিশ আকারে জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন করে ২৮টি কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষণা করে। অভিযোগ আছে, সার্চ কমিটির সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে বেশ কয়েকটি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আর আলোচিত বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস কমিটির প্রস্তাবনা আরও চার মাস আগে সার্চ কমিটি দিলেও সেটি এনএসসি এখনো প্রকাশ করেনি।

রানা বলেছেন, ‘আমরা যদি কমিটির মূল কাজটা ঠিকঠাক করতে পারতাম, সেটা আরও তিন মাস আগেই শেষ করতে পারতাম। তবে দুটি কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সত্যি বললে আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে পুরোপুরি সহযোগিতা পাইনি।’

কমিটির প্রধান হিসেবে নিজেদের ব্যর্থ মানতে রাজি নন রানা, ‘কমিটির কোনো দায় বা ব্যর্থতার সুযোগই নেই। কারণ আমরা কিন্তু আমাদের কাজগুলো করেছি। এর মধ্যে একটা ফেডারেশনের নাম চার মাস আগে দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ক্রীড়া পরিষদ সেটা এখনো প্রকাশ করেনি।’

সুপারিশকৃত কমিটিগুলোতে কিছু পরিবর্তন তাদের না জানিয়ে করায়ও খানিকটা অসন্তুষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আর্চারি ফেডারেশন নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তার দায় পুরোপুরিই এনএসসির মনে করে কমিটি। রানা বলেন, ‘আমরা যে কমিটি সুপারিশ করেছিলাম ক্রীড়া পরিষদ নিজেদের মতো একটা কমিটি দেয়। এ ছাড়া অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদেও আমাদের নির্ধারিত ব্যক্তিকে রাখা হয়নি। পরে এ ব্যাপারে ক্রীড়া পরিষদের কাছে জানতে চাওয়া হলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকার কথা বলা হয়। অথচ তাকেই যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। আমাদের কথা হলো, যদি অভিযোগই থাকে, তাহলে তাকে কেন কমিটিতে রাখা হলো। শুটিংয়ের মহাসচিব এখন পলাতক আছেন। ফলে সম্ভাবনাময় খেলাটি এখন অভিভাবক না থাকায় ধ্বংসের মুখে।’

এদিকে, জানা গেছে, আট মাসে সার্চ কমিটি কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০টি সভা করেছে। যার কোনো সম্মানী এখনো সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়নি সরকার।