প্রস্তুতি আর মানসিকতায় মনোযোগী জাকির

নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে আজ সিলেটে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নতুন মিশন। মাঠে নামার আগে দলের উদ্বোধনী ব্যাটার জাকির হাসানের কণ্ঠে ঝরেছে প্রস্তুতি, মানসিকতা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের বার্তা।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জাকির বলেন, ‘বৃষ্টির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখিনি। কোচিং স্টাফরা নিশ্চিত করেছেন যেন ইনডোর এবং আউটডোর—উভয়ভাবেই আমরা নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারি।’

একদিনের সিরিজে দাপুটে জয় পেলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না জাকির। তার মতে, ‘ওরা ভালো দল। আমাদের ওয়ানডে দলটা দুর্দান্ত খেলেছে বলেই সিরিজটা সহজ হয়েছে। তবে চারদিনের ম্যাচে নতুনভাবে শুরু করতে হবে। আবহাওয়াও একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সে দিকটাও মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলার কথাও উঠে এসেছে জাকিরের কণ্ঠে, ‘আমরা এখানে শুধু শেখার জন্য আসিনি, জেতার মানসিকতা গড়ার জন্য এসেছি। প্রত্যেকে যেন ভালো পারফর্ম করতে পারে, সেটাই লক্ষ্য।’

জাতীয় দলের হয়ে সময় অসময়ের অভিজ্ঞতা থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার মানেন, একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জীবনে উত্থান-পতন থাকবেই। তবে পারফরম্যান্সই শেষ কথা, ‘উচ্চতা-নিম্নতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমি বিশ্বাস করি, যদি ভালো পারফর্ম করি, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

খেলতে না পারার কষ্ট এবং দলের স্বার্থে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি, ‘খেলতে না পারা কোনো ক্রিকেটারই পছন্দ করে না। সবাই চায় মাঠে নামতে, পারফর্ম করতে। তবে পারফরম্যান্স ভালো না হলে বা দলের কম্বিনেশনের কারণে বাদ পড়লেও তা মেনে নিতে হয়। আমার মনে হয়, এখনকার বেশিরভাগ ক্রিকেটারেরই এই মানসিকতা আছে।’

জাতীয় দলে ফেরার প্রশ্নে জাকির মনে করেন, ‘এ’ দল থেকেই মূল দলে ঢোকার পথ তৈরি হয়—‘আমার কাছে এই সিরিজ আলাদা কিছু না। জাতীয় দলের ঠিক নিচেই এই স্তর। এখানে ভালো করলেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ার সুযোগ থাকে। তাই আমি গুরুত্ব দিয়েই খেলতে চাই, তবে বাড়তি চাপ না নিয়ে, স্বাভাবিকভাবে খেলতে চাই।’

সিলেট টেস্ট মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়। লক্ষ্য পরিষ্কার জয়ের ধারা গড়ে তোলা। আর সেই পথে জাকিরের মতো ক্রিকেটারদের মানসিকতা হতে পারে দলের বড় শক্তি।