ফুটবলের পোপ, ব্যালকনিতে মেসির এক ইশারায় উল্লসিত ভক্তরা

মাঠে যেমন ম্যাজিশিয়ান, মাঠের বাইরেও তার একটুখানি উপস্থিতিই যেন হাজারো মানুষের আনন্দের উপলক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরে যখন ইন্টার মায়ামি হোটেলে থেমেছে, তখন সেই হোটেল ঘিরে ভিড় করেছেন হাজারো ভক্ত। প্রতিপক্ষ দলে হলেও লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয়রা। আর তাদের হতাশ করেননি ফুটবল জাদুকর।

হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ভক্তদের প্রতি ভালোবাসার উত্তর দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই ব্যালকনির দৃশ্যকে তুলনা করেছেন ভ্যাটিকানে পোপের আবির্ভাবের সঙ্গে। 

এক ভক্তের মন্তব্য, 'ফুটবলের পোপ তিনিই,' আরেকজন লেখেন, 'তার যে কত খ্যাতি, তা হয়তো তিনি নিজেও জানেন না।' আরেকজন তো সরাসরিই বলে দেন, 'এই খেলাটার সত্যিকারের রাজা তিনি।'

৩৭ বছর বয়সী মেসির পা পড়ে যেখানে, সেখানেই উৎসব। আর যখন তার মতো কেউ হোটেলের ব্যালকনি থেকে হাত নাড়েন, তখন সেটাই রূপ নেয় মহোৎসবে। লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে শেয়ার করা কক্ষের ব্যালকনি থেকে যখন মেসি হাত নাড়ছিলেন, তখন পাশের ব্যালকনিগুলোতেও জড়ো হয় উৎসুক জনতা। কেউ ছবি তোলে, কেউ ভিডিও করেন—মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে ব্যস্ত সবাই।

মাঠের পারফরম্যান্সেও থেমে নেই ‘দ্য ফ্লিয়া’। এমএলএস-এ নিজের ১,০৯৮তম ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোল করেছেন বাঁ পায়ে, যেখানে তার কন্ট্রোল ও নিখুঁত শটে অসহায় হয়ে পড়েন মার্কার। এটাই ছিল চলতি মৌসুমে তার পঞ্চম গোল, যা তাঁকে এমএলএস গোলদাতার তালিকায় চতুর্থ স্থানে রেখেছে। তার ঠিক ওপরে আছেন হুগো কুইপার্স (৮ গোল)।

মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও কম চোখধাঁধানো নয়—৮৬০ গোল ও ৩৮১ অ্যাসিস্ট। এর মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২ গোল, পিএসজির হয়ে ৩২, ইন্টার মায়ামির হয়ে ৪৪ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১১২ গোল করেছেন তিনি।

সান হোসে আর্থকোয়েকসের বিপক্ষে বুধবার রাত ১১:৩০টায় (আর্জেন্টিনার সময়) মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি। সর্বশেষ ম্যাচে মিনেসোটা ইউনাইটেডের কাছে ৪-১ গোলে হেরে কিছুটা ধাক্কা খেলেও, ২১ পয়েন্ট নিয়ে পূর্বাঞ্চল কনফারেন্সের চতুর্থ স্থানে আছে তারা।

এদিকে, সান হোসে আছে পশ্চিমাঞ্চলের সপ্তম স্থানে। আর্জেন্টাইন ক্রিস্তিয়ান এস্পিনোজা ও হারনান লোপেজ মুয়োৎস, ভেনেজুয়েলিয়ান ফরোয়ার্ড জোসেফ মার্তিনেস—সবাই রয়েছেন এই দলে।

মে মাস জুড়ে ইন্টার মায়ামির শিডিউলও বেশ ঠাসা। অরল্যান্ডো সিটি, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন, মন্ট্রিয়াল ইমপ্যাক্ট, আর ৩১ মে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রাথমিক ধাপ। এরপর জুনে সামনে অপেক্ষায় ক্লাব বিশ্বকাপ, যেখানে জুনের ১৪ তারিখ আল-আহলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, সামনে জাতীয় দলের দায়িত্বও। আগামী ৫ জুন চিলির মাঠে এবং ১০ জুন ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ফিরছেন তিনি।