ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ২০ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় আরও অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২৫ জন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৯২৮ জনে।

গতকাল বুধবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নতুন করে ২০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। আহত হন আরও ১২৫ জন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ জনে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন এবং অনেকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। এরপর প্রায় দুই মাস শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করলেও, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবারও গাজায় বিমান হামলা শুরু করে তারা।

মূলত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ওই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি।

এই নতুন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল কার্যত চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়েছেন। একই সঙ্গে এই অবরুদ্ধ উপত্যকার অধিকাংশ অবকাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

অবরুদ্ধ গাজায় চলমান আগ্রাসনের দায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।