শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে ফ্রান্স

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে একটি বিলের ওপর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোট দিচ্ছেন ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা। বিলটি পাস হলে অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে ফ্রান্স। যদিও এ উদ্যোগ অনেক কিশোর-কিশোরীর কাছে অজনপ্রিয়, তবে অভিভাবক ও শিক্ষকদের একটি অংশ এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর করতে চান। সোমবার রাতে সংসদের যৌথ কমিটিতে বিলটির চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় পরিষদে এ নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ইতোমধ্যে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও চার মাস সময় দেওয়া হবে।

এ জন্য ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
 
তবে অনলাইন বিশ্বকোষ ও শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সাধারণত এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বয়সসীমাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে রয়েছে। তবে কোনো দেশ আইন পাস করলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের আরও অনেক রাষ্ট্র শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে একই ধরনের বিধিনিষেধের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও তরুণদের সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের এই বিল বিদ্যমান ইউরোপীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও পর্যালোচনা করবে কমিশন।

গত এপ্রিলে এক স্কুলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তরুণদের মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করে বই পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আমরা তোমাদের এমন এক ডিজিটাল জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি, যা তোমাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। এখন সময় এসেছে গতি কমিয়ে তোমাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করার।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত