বোয়ালমারীতে একাত্তরের ৩৩ শহীদের স্মরণে নীরবতা, ছিল না কোনো কর্মসূচি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়ায় ১৯৭১ সালের ১৬ মে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যায় শহীদ হন ৩৩ জন নিরীহ গ্রামবাসী। প্রতিবছর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও নানা কর্মসূচি পালিত হলেও এ বছর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দুর্বৃত্তদের হাতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার কারণে এবারের ১৬ মে কোনো স্মরণ কর্মসূচি হয়নি।

প্রতিবছরই বোয়ালমারীর শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজ চত্বরে অবস্থিত ‘শহীদদের নাম স্মৃতি স্তম্ভে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তবে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর রাতের আঁধারে স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফলে এবার শহীদদের স্মরণে দৃশ্যমান কোনো আয়োজন হয়নি বলে জানান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর বলেন, “১৯৭১ সালের ১৬ মে, আমি ও আমার বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে তিন শতাধিক পাক সেনার একটি বহর যশোর থেকে ট্রেনে করে বোয়ালমারীর হাসামদিয়ায় আসে। আমাদের না পেয়ে তারা রাজাকারদের সহযোগিতায় হাসামদিয়া, রামনগর, রাজাপুর, ময়েনদিয়া, রাজাবেনি, মিঠাপুর, পোয়াইলসহ আশপাশের গ্রামে তাণ্ডব চালায়। নিরস্ত্র ৩৩ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে।”

তিনি আরও বলেন, “হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় অন্তত ৫০টি বাড়ি। লুটপাটের শিকার হয় ময়েনদিয়া বাজার। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ৫০টির বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওই দিন শহীদ হন বাসুদেব রাজবংশী, নবদ্বীপ রাজবংশী, গোপাল রাজবংশী, সুমন্ত রাজবংশীসহ আরও অনেক নিরীহ মানুষ। আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করছি। আশা করি, আগামী বছর নতুন করে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। কেউ আমাকে জানাননি। তবে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্মৃতিস্তম্ভটি পুনর্নির্মাণ এবং দিবসটি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে পালনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও হাসামদিয়া গণহত্যার স্থানে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।