ক্রিকেটারদের প্রেমকাহিনী মাঝেমধ্যেই সামনে চলে আসে। কিন্তু রোহিত শর্মার প্রেমের গল্প কয়জন জানেন? বোরিভেলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচে হাঁটু গেড়ে বসে রিতিকা সাজদেহকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন রোহিত। বলেছিলেন, ‘এটাই আমার প্রতিদিনের অফিস। আমার আঁতুড়ঘর। এখানেই আমি বেড়ে উঠেছি। তুমি কি আমার সঙ্গে হাঁটবে?’ কিন্তু কেমন ছিল রোহিত-রিতিকার প্রেমকাহিনী?
২০০৮ সালে রোহিতের বয়স ২০ বা ২১। ততদিনে ‘প্রতিভাবান ক্রিকেটার’ হিসাবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর পুরো ১৫টি ওয়ানড ম্যাচ ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। রীতিকা তখন মুম্বাইয়ের একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট সংস্থার অন্যতম কর্ণধার। সেই সংস্থার সিইও এবং রীতিকার কাজিন বান্টি সজদে চেয়েছিলেন রোহিতকে চুক্তিবদ্ধ করতে। সেই দায়িত্ব পড়ে রিতিকার ওপর।
ততদিনে রিতিকাদের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুবরাজ সিংসহ কয়েকজন ক্রীড়াবিদ চুক্তিবদ্ধ। যুবরাজের বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিষয় দেখতেন বান্টি। আর সংস্থার পক্ষ থেকে যুবরাজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন রীতিকা। পরবর্তীতে যুবরাজকে রাখি পড়িয়ে ভাই বানিয়ে নেন রিতিকা। তাদের মাঝে তৈরি হয় পারিবারিক সম্পর্ক। ক্রিকেটার রোহিতকে বাগে পেতে যুবরাজের সাহায্য চান রীতিকা। যুবরাজ তাকে সাহায্য করতে রাজি হয়ে যান।
যুবরাজ তখন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় সুপারস্টার। রোহিত কেবল যাত্রা শুরু করেছেন। তাই জুনিয়র সতীর্থকে নাকি যুবরাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, রীতিকা তার বোন। কথাবার্তা যেন পেশাগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে। রিতিকাকেও তিনি একইভাবে সতর্ক করে দেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে রোহিতই বলেছিলেন, ‘যুবিভাই আমাকে কঠোর ভাষায় পরিষ্কার বলেছিলেন যে,রীতিকার থেকে দূরে থাকতে। প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তা না বলতে।’
কিন্তু এই নিষেধ কি আর কেউ শোনে? ফোনে কথা শুরু হয় দুজনের। ২০০৮ সালে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে প্রথম দেখা হতেই যুবরাজের কথা ভুলে দুজনে ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন ছুতোয় ঘন ঘন দেখা করতেন। দুজনে এক দিন যান বোরিভেলি স্পোর্টস ক্লাবে। সেখানেই মাঠের মাঝে পিচের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে রিতিকাকে প্রপোজ করেন রোহিত। ৬ বছর পর ২০১৫ সালে তাদের প্রেম পরিণতি লাভ করে। এই দম্পতির প্রথম সন্তান সামাইরা। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় সন্তান আহান।