যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগের মামলায় এক পুলিশ সদস্যের দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোছাম্মৎ রোকশানা বেগম হেপী এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হলেন ডিএমপির পরিবহন বিভাগের কনস্টেবল মো. মনির হোসেন এবং রাজধানীর কদমতলী থানার মেরাজনগরের আব্দুর রহমানের ছেলে।
রায় ঘোষণা পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোসা. শিল্পী আক্তার। তিনি বলেন, মনির দীর্ঘদিন ধরে আমাকে নির্যাতন করেছে, যৌতুক দাবি করেছে। এছাড়াও গোপনে অন্যত্র বিয়ে করে আমার সংসার শেষ করেছে। তার সাজা হওয়ায় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ মার্চ ১ লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে পুলিশ কনস্টেবল মনির হোসেনের সঙ্গে বাদী শিল্পী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় মনির হোসেন যৌতুকের দাবিতে বাদীকে মারধর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর মনির ও অন্যান্য আসামি তার পরিবারের সদস্যরা শিল্পী আক্তারের নিকট ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে৷
বাদী যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে আসামি বাদীকে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলে। এতে অস্বীকৃতি জানালে আসামি বাদীকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে আসামি বাদীর মাথায় বটি দিয়ে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। রাজধানীর কদমতলী থানা পুলিশ পরে এসে ভুক্তভোগী বাদীকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে শিল্পী আক্তার বাদী এ মামলাটি করে।