জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সোমবার সাক্ষ্য গ্রহণের দশম কার্যদিবসে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ছয় সাক্ষীর মধ্যে ৩০ নম্বর সাক্ষী সিলেটের ‘৭১-এর কথা’র ফটোসাংবাদিক মো. মোহিদ হোসেন তার জবানবন্দিতে গত বছরের ১৯ জুলাই সিলেটে দৈনিক জালালাবাদ ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফটোসাংবাদিক এ টি এম আবু তুরাবের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিবরণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, পুলিশকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা গুলি চালায় এবং পরে তুরাব মারা যান।
অপর পাঁচ সাক্ষী হলেন: সাংবাদিক হুমায়ুন কবির লিটন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী পরিচালক ডা. হাসানাৎ আল-মতিন, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এর ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার তারেক নাসরুল্লাহ, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন (নিটোর)-এর সহকারী পরিচালক ডা. মো. রশিদুল আলম এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. রাহাদ বিন কাশেম।
এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ৩৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মোহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের ১৯ জুলাই সারা দেশে বিএনপির গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে সিলেটের মধুবন পয়েন্টের কাছে অবস্থিত কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পরে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জিন্দাবাজারের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ পেছন দিক থেকে অতর্কিতে গুলি চালায়। তিনি ও তাঁর সহকর্মী আবু তুরাব তখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মোহিদ হোসেন বলেন, “আমি হাত উঁচিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলছিলাম, ‘দস্তগীর ভাই (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তখনকার অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাদেক দস্তগীর), আমরা সাংবাদিক, আমাদের গুলি করবেন না।’ তারপরও পুলিশ গুলি চালাতে থাকে।”
তিনি বলেন, “পুলিশের গুলিতে আমার সহকর্মী তুরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়েন। তাকে আমি রিকশায় করে এবং পরে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন চিকিৎসায় বাধা দেয়ার কারণে তাকে বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।”
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীদের জেরা করেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন।
মামলার আরেক আসামি, কারাগারে থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গতকাল ট্রাইব্যুনালের কটগড়ায় হাজির করা হয়। তিনি এই মামলার রাজসাক্ষী।
চবি ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারার সময় বাড়ল
হত্যা মামলায় মৃত ব্যক্তিও আসামি
আ.লীগ-জাপাসহ ১৪ দলের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি ২২ দলের