ঢাকা-করাচি রুটে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সোমবার (১৯ মে) পাকিস্তানের বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘এয়ার সিয়াল’-কে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করে ‘এয়ার সিয়াল’। এটি একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিমান সংস্থা, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে থাকে।
এর আগে চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আহমদ মারুফ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে তিনি পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর জোর দেন।
পাকিস্তানের সর্বশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস’ (পিআইএ) ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করত। তবে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির অজুহাতে সে বছরই পিআইএ রুটটি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সামনে আনে ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফপিসিসিআই)। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে এফপিসিসিআই সভাপতি আতিফ ইকরাম জানান, “পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। তবে ভিসা জটিলতা এবং সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তারা তা বাস্তবায়নে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।”
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হুসাইন জানান, ফ্লাই জিন্নাহ বর্তমানে তাদের বহর সম্প্রসারণের অপেক্ষায় আছে। তবে এয়ার সিয়াল প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দুই মাসের মধ্যে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে জাল মুদ্রা চোরাচালানের অভিযোগে পিআইএর ঢাকা স্টেশনের ব্যবস্থাপক আলী আব্বাসকে আটক করে তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ পুলিশ। ওই ঘটনার পর পিআইএর ঢাকার কার্যালয়ে কয়েক দফা তল্লাশি চালানো হয়। এরই জেরে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার সঙ্গে তাদের ফ্লাইট চালানো বন্ধ করে দেয়।