ভারতের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের একজন সরফরাজ খান। মেদবহুল শরীরের জন্য বেচারাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। সুনীল গাভাস্করের মতো কিংবদন্তি বলেছিলেন, ওজন নয়, একজন ব্যাটারের পারফরম্যান্স দেখা উচিত নির্বাচকদের। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে ফিটনেস গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেকে বদলে ফেলেছেন সরফরাজ।
মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ৮৬ কেজি থেকে সরফরাজের ওজন এখন ৭৬ কেজি। সেই নাদুস-নুদুস ভুঁড়িওয়ালা চেহারা আর নেই। বোঝা যাচ্ছে মুখমণ্ডলের চিবুক। গাল, ঘাড় থেকে শুরু করে শরীরের বাকি জায়গার মেদও উধাও। কিন্তু কীভাবে সম্ভব হলো এটা? ওজন কমানোর জন্য পছন্দের চিকেন ও মটন বিরিয়ানি ছাড়তে হয়েছে সরফরাজকে। এমনকি, ভাত-রুটিও ছিল বন্ধ!
অর্থাৎ, সরফরাজের খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়েছে। ছেলের জন্য খাদ্যাভ্যাস পুরোপুরি বদলে ফেলেছে সরফরাজের পরিবার। সরফরাজের বাবা নওশাদ বলেছেন, ‘পরিবারের সবাই মিলে ওজন কমানোর যুদ্ধে নেমেছি। ডায়েটে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভাত, রুটি, চিনি বন্ধ। দেড় মাস ওসব খাবার কেউ খায়নি। তার বদলে ব্রকোলি, গাজর, শশা, সালাদসহ বিভিন্ন সবজি খাওয়া হচ্ছে বেশি করে। চিকেন, ডিম সব খাচ্ছি সেদ্ধ করে। সেইসঙ্গে আছে গ্রিন টি এবং গ্রিন কফি।’
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি দৈনন্দিন রুটিন বদলে ফেলেছেন সরফরাজ ও তার বাবা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছু চলছে রুটিন অনুযায়ী। নওশাদ বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরে ক্রস ময়দানে যাই। সেখানে প্রথমে ওয়ার্ম-আপ করি। তারপর সরফরাজ কিছুক্ষণ দৌড়ায়। দৌড়ানোর পর ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং অনুশীলন করে। সাড়ে ১০টার দিকে আমরা বাড়ি ফিরে নাশতা করে বিশ্রাম নেই। আমার ছোট ছেলে মইনও ওজন কমিয়েছে।’
সপ্তাহে ৬দিন সন্ধ্যায় মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের জিমে যান সরফরাজ ও নওশাদ। এর আগে সরফরাজ আধঘণ্টা করে দৌড়ান আর সাঁতার কাটেন। জিম ও শারীরিক কসরতের পাশাপাশি নিজের ব্যাটিং নিয়েও বাড়তি পরিশ্রম করছেন সরফরাজ। বাড়ির উঠানে তৈরি উইকেটে সরফরাজ নাকি দৈনিক ৫০০টি বল খেলেন। সামনেই ইংল্যান্ড সফর আছে ভারতের। সরফরাজ কি জায়গা করে নিতে পারবেন?