ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে শেরপুরে বন্যার শঙ্কা 

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে শেরপুরের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে । এদিকে মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১০টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

এ ছাড়া জেলা জুড়েই  থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আগাম বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার একটি বিদ্যালয় এর মাঠে পানি প্রবেশ করেছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই নদীর পানি নকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৯৭ সেন্টিমিটার নিচে, ভোগাই নদীর নালিতাবাড়ী পয়েন্ট বিপৎসীমার ২৫৭ সেন্টিমিটার নিচে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমার ৬৮৭ সেন্টিমিটার মিটার নিচে এবং চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টি না থামায়  কৃষকরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখনো জেলায় ৮ শতাংশ ধান টাকা বাকি রয়েছে। এছাড়াও কেটে নেয়া অনেক ধান মারাই হয়নি। অনেক কৃষকের খড় এখনো কাঁচা। টানা বৃষ্টিপাতে অনেকের কেটে নেয়া ধান ও খড় বৃষ্টির পানিতে পচে যাচ্ছে। খেতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ধান কাটতে সময় বেশি লাগায় শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু কিছু নিচু এলাকায় পানিতে জোঁকের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়ে পানিতে নামতে পারছে না কৃষক।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ৯২ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। সোমবার জেলার তিনটি উপজেলায় নিজে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টির জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ক্ষেতে নামানো যাচ্ছে না‌। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে ইতোমধ্যেই মাইকিং করা হয়েছে। আশাকরি দুই এক দিনের মধ্যেই সব ধান কাটা শেষ হবে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। টানা কয়েকদিনের ভারতের দুটি প্রদেশের বৃষ্টি এবং এই অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ফলেই এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বাঁধগুলোতে নিয়মিত নজরদারি রাখছি।

শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে  বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সতর্কতামূলক মাইকিং করেছি। এ ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় টাকা পয়শা, খাদ্যদ্রব্য, ঔষধ, মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে বসে বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।