কাজ শেষের আগেই ভেঙে পড়ছে নকলা-নালিতাবাড়ী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা 

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

নকলা-নালিতাবাড়ী মহাসড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, মাঝরাতেই দুর্ঘটনা আতঙ্ক। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৫ মে) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সন্ধান মিলে।

শেরপুরের নকলা উপজেলা থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলা হয়ে নাকুগাও স্থলবন্দরে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (আরএইচডি) শেরপুরের তত্ত্বাবধানে চলমান এই প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নকলা উপজেলার শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন অংশে ১৫/২০ দিন আগে কাজ শেষ হতেই সড়কের মাঝখানে প্রায় ৩০ মিটার এলাকাজুড়ে কাজ নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় হাজার হাজার যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতের বেলায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (আরএইচডি) শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, নকলা থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়কের একটি অংশে কাজ চলমান অবস্থায় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ওই অংশের কাজ নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির কারণে এমন হলে বৃষ্টি কি শুধু সড়কের মাঝখানেই পড়েছিল? তাহলে একই সড়কের অন্য অংশ অক্ষত থাকলেও মাঝখানের অংশই কেন ক্ষতিগ্রস্ত হলো—এ প্রশ্নের জবাব মিলছে না। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও তদারকির ঘাটতির কারণেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কটি নষ্ট হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার দুই পাশ ভালো থাকলেও মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে বোঝা যায় কাজের মান ঠিক ছিল না। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হলেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। 

জানা গেছে, ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্সের আওতায় পরিচালিত এ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলো “শামীম এন্টারপ্রাইজ ইউডিসি জেভি”। তবে প্রকল্পের ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো ফোন নম্বর দেয়নি আরএইচডি শেরপুর।

এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও কাজের মান তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই ব্যস্ত সড়কে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত