হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি থানার আওতাভুক্ত একটি আবাসিক এলাকায় ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। উল্লেখ্য, এদের একজন—মোহাম্মদপুর থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে। তা সত্ত্বেও, হান্নান মাসউদ থানায় গিয়ে আটক ওই তিনজনের পক্ষে মুচলেকা দিয়ে তাদের জামিনে মুক্ত করেন।

এ প্রেক্ষিতে নোটিশে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় তার ব্যাখ্যা এবং কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই লিখিত বিবরণ আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে জমা দিতে হবে।

এই বিষয়ে হান্নান মাসউদ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। মঙ্গলবার, ২০ মে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর তিনি তার ভেরিফায়েড আইডিতে লেখেন—‘মোহাম্মদপুর থানা বৈবিছাআ’র আহ্বায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয় মব সৃষ্টির চেষ্টাকালে, যার ফলে বৈবিছাআ’র পরিচয়ে স্টুডেন্টরা ধানমন্ডি থানায় গিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের অনুরোধে আমি সেখানে যাই। গিয়ে প্রশাসনের অনুরোধে বিষয়টির মধ্যস্থতা করি। যেহেতু প্রশাসন ওদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রুজু করেনি এবং করতেও চাচ্ছিল না।’

নিজের ভূমিকা সম্পর্কে হান্নান মাসউদ লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা মঞ্চের ব্যানারে যারা নিয়মিত মব সৃষ্টি করে, তাদের একজন সেখানে ছিল, যা আমি পরে জানতে পারি। প্রশাসনকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।’

তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার রাতে ধানমন্ডিতে এক প্রকাশককে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিনজন সমন্বয়ক। পরে ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

পরে মঙ্গলবার, ২০ মে, হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমি কেবল খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যেটা মীমাংসা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাইরের অনেকেই জড়িত রয়েছে, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’